সারাদেশ
বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষককে থাপ্পড়, বিএনপি নেতাকে শোকজ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারী শিক্ষককে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবজাল মোল্লাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার কালনী হিড়নাল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযুক্ত আবজাল মোল্লা দাউদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। আর অভিযোগকারী একরামুন্নেছা বিউটি ওই বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন দপ্তরির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক একরামুন্নেছা বিউটিকে নিজের কক্ষে ডেকে পাঠান। সেখানে বিএনপি নেতা আবজাল মোল্লা, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন, কমিটির তিন সদস্য এবং কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিদ্যালয়ের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে কিছুদিন আগে একরামুন্নেছা বিউটি আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন আবজাল মোল্লা। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওই নারী শিক্ষকের ওপর চড়াও হন এবং তাকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গেও তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক একরামুন্নেছা বিউটির অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে আবজাল মোল্লার সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই বুধবার তাকে অপমান ও মারধর করা হয়েছে। ঘটনার সময় উপস্থিত অন্য শিক্ষকেরা বাধা দিতে গেলে আবজাল মোল্লা তাদেরও গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আবজাল মোল্লা বলেন, ওই শিক্ষক তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় তিনি উত্তেজিত হয়ে তাকে একটি থাপ্পড় দিয়েছেন। তবে এমন কাজ করা ঠিক হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় আবজাল মোল্লাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ূন। তিনি বলেন, নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হলে আবজাল মোল্লার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তাঁর উপস্থিতিতে বাইরে থেকে এসে একজন শিক্ষককে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিদ্দিক নুর আলম। তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আবদুল্লাহ বিন শফিক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।