সারাদেশ

পীর ‘সেজে’ কবরস্থানে আস্তানা গাড়লেন হত্যা মামলার আসামি, অতঃপর...


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

পীর ‘সেজে’ কবরস্থানে আস্তানা গাড়লেন হত্যা মামলার আসামি, অতঃপর...
ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় হত্যা মামলার প্রধান আসামি গয়াছ মিয়া (৩৫) জামিনে মুক্তি পেয়ে ‘পীর’ পরিচয়ে কবরস্থানে আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বসবাস গ্রামের শতবর্ষী কবরস্থানসংলগ্ন জঙ্গলে তিনি প্রায় এক বছর ধরে বসবাস করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাথায় সাদা পাগড়ি ও হাতে লোহার রড নিয়ে নিজেকে ‘স্বপ্নে আদিষ্ট পীর’ দাবি করে চলাফেরা করছেন গয়াছ মিয়া। কবরস্থানের একটি বড় গাছের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি দোতলা ঘরে তার অবস্থান।

অভিযোগ রয়েছে, এই আস্তানাকে কেন্দ্র করে মাদকসেবন ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছে। এতে করে আশপাশের বাসিন্দা, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা যায়, ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই যুবককে ছুরিকাঘাত করেন গয়াছ মিয়া। এতে জাকির হোসেন নামে একজন নিহত হন এবং জিহান মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

গত ১৭ জুন এলাকাবাসী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে কবরস্থানে গড়ে তোলা আস্তানা উচ্ছেদ, কবরস্থান রক্ষা এবং মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানানো হয়।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, গয়াছ মিয়া প্রায়ই লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করেন। তার উপস্থিতিতে আশপাশের চারটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে চলাচল করছে।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই গয়াছ মিয়া কবরস্থান এলাকায় বসবাস শুরু করেছেন। তার আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এছাড়া বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহীন আলম অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর এলাকায় মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আনাগোনা বাড়ে, যা স্থানীয়দের জন্য উদ্বেগজনক।

বাজিতপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, পবিত্র কবরস্থানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গয়াছ মিয়া। তার দাবি, স্বপ্নে নির্দেশ পেয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় সময় কাটাচ্ছেন। তিনি কোনো ধরনের মাদক বা জুয়ার সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।

এদিকে নিহত জাকির হোসেনের বাবা রুহুল আমিন অভিযোগ করেছেন, তার ছেলেকে হত্যার পরও গয়াছ মিয়া জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় এসে তাকে হুমকি দিচ্ছেন।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, গয়াছ মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।