সারাবিশ্ব

সৌদি আরবে হামলা বন্ধের আহ্বান মিশরের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

সৌদি আরবে হামলা বন্ধের আহ্বান মিশরের
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে চলমান হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থগিত থাকা কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এসব আহ্বান জানান মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় আঞ্চলিক পরিস্থিতি, চলমান সংঘাত এবং উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সৌদি আরবে হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন বদর আবদেলাত্তি। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং এগুলো সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে অবিলম্বে হামলা বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং তা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগ তৈরি করছে। এ কারণে সংকট নিরসনে উত্তেজনা কমানো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্থগিত থাকা কূটনৈতিক আলোচনা দ্রুত পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন আবদেলাত্তি। তার মতে, পারস্পরিক মতপার্থক্য নিরসন, সংঘাতের বিস্তার রোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই।

এদিকে সৌদি আরবকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মিশরের পক্ষ থেকে হামলা বন্ধ ও কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বানকে আঞ্চলিক সংকট প্রশমনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সরবরাহ করা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের শুরুতে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথাও এতে বলা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিকদের হতাহতের তথ্যও দেওয়া হয়েছে।

তবে হামলার স্থান, হতাহতের সংখ্যা এবং হামলার জন্য দায়ী পক্ষ সম্পর্কে এসব তথ্য প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।