সারাবিশ্ব

ভারতের ‘তেজস’ যুদ্ধবিমান কেনা স্থগিত করল আর্মেনিয়া!


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২৮ এএম

ভারতের ‘তেজস’ যুদ্ধবিমান কেনা স্থগিত করল আর্মেনিয়া!
ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত দুবাই এয়ারশোতে ভারতের হালকা যুদ্ধবিমান ‘তেজস’ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জন্মেছে নানা প্রশ্ন। সেই দুর্ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই আর্মেনিয়া তাদের ‘তেজস’ কেনার আলোচনা স্থগিত করেছে।

ভারতীয় যুদ্ধবিমানটির প্রথম রপ্তানি চুক্তি হতে পারত এই কেনাকাটা, যা ভারতের জন্য অস্ত্র রপ্তানি খাতে বড় সাফল্য হিসেবেই বিবেচিত হতো।

ইসরায়েলি দৈনিক জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, আর্মেনিয়া ভারত সরকার ও হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডের (এইচএএল) সঙ্গে ১.২ বিলিয়ন ডলারের ১২টি ‘তেজস’ কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা করছিল। কিন্তু দুবাই এয়ারশোতে তেজস বিধ্বস্ত হওয়ার পরই আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। তবে আর্মেনিয়া সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, ভারতও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আর্মেনিয়ার সঙ্গে চুক্তিটি সম্পন্ন হলে সেটিই হতো ভারতের ‘তেজস’ যুদ্ধবিমানের প্রথম রফতানি সফলতা। ১৯৮২ সালে ভারত তাদের নিজস্ব যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্প হিসেবে তেজসের উন্নয়ন শুরু করে। ভারতীয় মিগ–২১-এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ভারতীয় বিমান বাহিনী ৪০টি তেজস পেয়েছে, তবে ‘তেজস A1’ নামে ৯৭টি উন্নত সংস্করণের উৎপাদন চলছে, যেখানে ইসরায়েলি প্রযুক্তির আধুনিক রাডার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এইচএএল–এর তৈরি এক আসনের হালকা তেজস যুদ্ধবিমানটি ৪.৫–প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট, যা বিমান প্রতিরক্ষা, আক্রমণাত্মক আকাশ সহায়তা ও নিকটবর্তী যুদ্ধ অভিযানে সক্ষমতা দেখাতে পারে।

গত ২১ নভেম্বর দুবাইয়ের আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রদর্শনের সময় ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি তেজস বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলট উইং কমান্ডার নমাশ সিয়াল নিহত হন। এ দুর্ঘটনার আগে, ২০২৪ সালের মার্চে রাজস্থানের জয়সলমেরে আরেকটি তেজস বিধ্বস্ত হলেও তখন পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। ২০০১ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর ২৩ বছরের ইতিহাসে সেটিই ছিল মডেলটির প্রথম দুর্ঘটনা।

সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলো তেজসের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে, আর আর্মেনিয়ার সিদ্ধান্ত ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি কৌশলকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।