সারাবিশ্ব

দিল্লি অগ্নিকাণ্ড: বাথরুমে মিলল দম্পতির শেষ আলিঙ্গন অবস্থায় মরদেহ!


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

দিল্লি অগ্নিকাণ্ড: বাথরুমে মিলল দম্পতির শেষ আলিঙ্গন অবস্থায় মরদেহ!
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) সকালে ‘ফ্লুরিশ স্টে বিএনবি’ নামের হোটেলটিতে আগুন লাগে। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং আগুনে পুড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

উদ্ধারকাজ চলাকালে একটি বাথরুম থেকে এক দম্পতির মরদেহ আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, যা উদ্ধারকারীদেরও নাড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে দিল্লি পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

দমকল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া যায়। সেখানে কমোডে বসা নারীকে পাশের চেয়ারে বসা পুরুষটি শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের চেয়ে বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া একটি কক্ষ থেকে সম্পূর্ণ দগ্ধ আরেক দম্পতির মরদেহ এবং বেসমেন্টের রিসেপশনের কাছে এক তরুণী ও হুইলচেয়ারে থাকা এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সময় স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ শোয়েব, আফজল, ওয়াসিম ও আশরাফ খানসহ কয়েকজন নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তারা কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই ধোঁয়ায় ভরা ভবনে ঢুকে আটকে পড়া মানুষদের বিছানার চাদরে জড়িয়ে নিচে নামিয়ে আনেন।

অন্যদিকে ভবনের ছাদে আটকে পড়াদের বাঁচাতে রিয়াজুদ্দিন মনসুরি ও তার ছেলে আরমান নিজেদের দোকান থেকে ২০-২২টি তোষক এনে নিচে বিছিয়ে দেন, যাতে লাফ দিয়ে অনেকেই প্রাণে বাঁচতে পারেন। এতে তাদের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হলেও মানবতার খাতিরে কাজটি করেছেন বলে জানান তারা।

দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে হতাহতের বড় কারণ হিসেবে হোটেল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলটির কোনো বৈধ অগ্নিনির্বাপণ ছাড়পত্র ছিল না। মাত্র ৬টি কক্ষের অনুমতি থাকলেও অবৈধভাবে ২৫টি কক্ষ চালানো হচ্ছিল। ভবনে জরুরি বের হওয়ার পথ ছিল না, জানালাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ ছিল এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রধান দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে থাকায় দ্রুত বের হতে পারেননি। ধোঁয়ায় অচেতন অবস্থায় ৫৮ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঘটনার পর হোটেল মালিক লভকেশ বাজাজ পালিয়ে গেলেও পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা দিল্লির আবাসিক হোটেলগুলোর অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।