সারাবিশ্ব
গ্রেপ্তার হতে পারেন বাংলাদেশ দখলে উসকানি দেওয়া ভারতের সেই ‘খান স্যার’
বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়া ভারতের বিহারের শিক্ষক ও ইউটিউবার ফয়সাল খান, যিনি ‘খান স্যার’ নামে পরিচিত, নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন। তার কোচিং সেন্টারে হামলা ও গুলিকাণ্ডের ঘটনায় তাকে যে কোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৫ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিসহ বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাটনায় অবস্থিত তার কোচিং সেন্টারে হামলার সময় নিরাপত্তারক্ষীদের গুলি চালানোর অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তার দুই নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার রাতে ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’ নামের কোচিং সেন্টারটিতে ১৫-২০ জনের একটি দল হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় পাথর নিক্ষেপের পাশাপাশি গুলির ঘটনাও ঘটে বলে বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র জব্দ করে।
ঘটনার পর ‘খান স্যার’ অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ‘জ্ঞান বিন্দু কোচিং সেন্টার’-এর লোকজন হামলার সঙ্গে জড়িত। তবে পরবর্তীতে তিনি গুলি চালানোর বিষয়ে নিজের অবস্থান আংশিক পরিবর্তন করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ।
এ ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রোশন আনন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুরো ঘটনাটি সাজানো হতে পারে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গুলি চালানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ না মিললেও পরে একটি ভিডিও ভাইরাল হলে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। ওই ভিডিওতে ‘খান স্যার’-এর দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গুলি চালাতে দেখা যায়। এর ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করে অস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ এবং লাইসেন্স যাচাই করছে।
এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ‘খান স্যার’-কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তার গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছে ‘খান স্যার’-এর পুরোনো একটি ভিডিও। ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তিনি বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।