সারাবিশ্ব

ভারতে বকেয়া ৩৫ লাখ রুপির দাবিতে ৮ দিন আটকে রাখা হয় বাংলাদেশি নারীর স্বামীর মরদেহ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

ভারতে বকেয়া ৩৫ লাখ রুপির দাবিতে ৮ দিন আটকে রাখা হয় বাংলাদেশি নারীর স্বামীর মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্বামীর মরদেহ নিয়ে আট দিন হয়রানির শিকার হয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নারী। তার অভিযোগ, চিকিৎসার বকেয়া ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি পরিশোধ না করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্বামীর মরদেহের পাশাপাশি পাসপোর্টও আটকে রাখে। পরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় মরদেহ ও পাসপোর্ট ফেরত পান তিনি।

নওগাঁর বাসিন্দা তানজিলা ইসলাম আশা জানান, তার স্বামী মোহাম্মদ আবদুল হাকিম শাবুজ বাংলাদেশের একজন চুক্তিভিত্তিক সরকারি শিক্ষক ছিলেন। কিডনির চিকিৎসার জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর তারা বেঙ্গালুরু যান। পরদিন তীব্র বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে শাবুজকে ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডের মণিপাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

আশার ভাষ্য, চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাবুজের একাধিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করা হয়। শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ১৪ সেপ্টেম্বর তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তিনি মারা যান।

আশা জানান, চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকা চাইলে তিনি কিস্তিতে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি পরিশোধ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি দাবি করে। এই টাকা পরিশোধ না করলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে না বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার আরও অভিযোগ, আগে পরিশোধ করা ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপির কোনো রসিদ তাকে দেওয়া হয়নি। এমনকি চিকিৎসার সম্ভাব্য ব্যয় বা বকেয়া অর্থের বিষয়েও আগে তাকে জানানো হয়নি।

আশা বলেন, স্বামীর মরদেহ আটকে রাখার পাশাপাশি তার পাসপোর্টও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রেখে দেয়। পরে তিনি লিখিতভাবে বিষয়টি জানান এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তা চান। শেষ পর্যন্ত শনিবার বকেয়া শূন্য দেখিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্বামীর মরদেহ হস্তান্তর করে।

শাবুজের বন্ধু মোহাম্মদ মোক্তাদির হোসেন জানান, পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তিনি বেঙ্গালুরু যান। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় শুক্রবার আশা তার পাসপোর্ট ফেরত পান এবং স্বামীর মরদেহ দেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

হাসপাতালের এক কর্মকর্তা মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আশার অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, শাবুজ গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তার হৃদযন্ত্র দুবার বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। পরে তাকে কৃত্রিম হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের সহায়তা এবং শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা দেওয়া হয়।

হাসপাতালের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট ও রক্তনালিতে বাধা ধরা পড়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে নিবিড় পরিচর্যা ও অস্ত্রোপচার দলের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও ১৮ সেপ্টেম্বর শাবুজ মারা যান।