সারাবিশ্ব

যমুনায় ডুব দিয়ে পানি পান বিজেপি নেতার, বললেন দূষণ অর্ধেক কমে গেছে


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

যমুনায় ডুব দিয়ে পানি পান বিজেপি নেতার, বললেন দূষণ অর্ধেক কমে গেছে
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির যমুনা নদীর দূষণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সোনিয়া বিহার ঘাটে যমুনার পানিতে ডুব দিয়ে পানি পান করেছেন বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি। তার দাবি, রেখা গুপ্তার সরকারের প্রচেষ্টায় গত এক বছরে যমুনার দূষণ অর্ধেক কমেছে। এখন নদীতে ছট পূজাও উদযাপন করা সম্ভব।

মনোজ তিওয়ারি বলেন, নদীতে পরিযায়ী পাখিদের আগমন প্রমাণ করে পানি আগের চেয়ে পরিষ্কার হয়েছে। পানি পরিষ্কার না হলে এসব পাখি আসত না। সেখানে কুমিরও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, কুমির সাধারণত পরিষ্কার পানিতেই আসে।

তিনি আরও বলেন, বিজেপি সরকার দেড় বছরে যমুনার অর্ধেক দূষণ পরিষ্কার করেছে, যা আগের সরকারগুলো করতে পারেনি। একই সঙ্গে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে যমুনায় ডুব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।

তবে বিজেপির এই দাবির জবাব দিয়েছে আম আদমি পার্টি। দলটির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, বিজেপি নেতারা দিল্লির পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। পাল্লা থেকে ওয়াজিরাবাদ পর্যন্ত যমুনার ২৬ কিলোমিটার অংশ সবসময়ই তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে। আম আদমি পার্টির সরকারের সময় এই অংশের পানি আরও বেশি পরিষ্কার ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

এ সময় মনোজ তিওয়ারি ও পানিমন্ত্রী পারভেশ ভার্মাকে কালিন্দি কুঞ্জ ঘাটে গিয়ে যমুনার পানি পান করার পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানান সৌরভ ভরদ্বাজ।

যমুনার দূষণ নিয়ে দুই দলের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। পানিতে দূষণের মাত্রা পরিমাপের অন্যতম সূচক হলো জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। গোসলের উপযোগী পানিতে এই মাত্রা প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ৩ মিলিগ্রাম হওয়া উচিত।

তথ্য অনুযায়ী, পাল্লা এলাকায় এই মাত্রা প্রতি লিটারে ২ মিলিগ্রাম। তবে আইএসবিটি সেতু এলাকায় তা বেড়ে ৩০ মিলিগ্রাম এবং আইটিও এলাকায় ১৮ মিলিগ্রামে পৌঁছেছে। যা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। এ ছাড়া মানুষের ও প্রাণীর বর্জ্যের কারণে আইএসবিটি সেতু এলাকায় পানিতে মলজাতীয় জীবাণুর মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৪ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি যমুনা নদী পরিষ্কারের জন্য ৮ হাজার ৯৪১ কোটি টাকার ৪৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২৯ সালের মে মাসের মধ্যে দিল্লির যমুনা নদী পুরোপুরি পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর কিছু অংশের পানি তুলনামূলক পরিষ্কার হলেও যমুনাকে পুরোপুরি দূষণমুক্ত ও নিরাপদ ঘোষণা করতে এখনো অনেক কাজ বাকি।

সূত্র: এনডিটিভি