সারাবিশ্ব
হোয়াইট হাউসে তিন গণমাধ্যমের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা: ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে বিচার বিভাগের যুক্তি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে করা মামলায় হোয়াইট হাউসে CNN, MS NOW ও Politico-র সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ (DOJ)। মঙ্গলবার রাতে ফেডারেল আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে বিচার বিভাগ যুক্তি দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসের নির্দিষ্ট এলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
বিচার বিভাগের দাবি, ইরান যুদ্ধ এবং হোয়াইট হাউসে প্রস্তাবিত নতুন বলরুম নির্মাণ নিয়ে CNN, MS NOW ও Politico-র প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবেদনশীল বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য প্রকাশিত হলে তা যাচাই করতে জাতীয় নিরাপত্তা দল ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে হয়। এই যুক্তির ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে বিচার বিভাগ।
আদালতে দেওয়া নথিতে বিচার বিভাগ আরও বলেছে, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি সুযোগ, সাংবিধানিক অধিকার নয়। সরকারের যুক্তি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন বিশেষায়িত ও সীমিত-প্রবেশাধিকারযুক্ত এলাকায় কোন সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারবেন, তা নির্ধারণ করে আসছেন। বিশেষ করে ওভাল অফিসের মতো প্রেসিডেন্টের সংরক্ষিত এলাকাগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষার স্বার্থে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে বলেও নথিতে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই যুক্তির সঙ্গে সাংবিধানিক প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে সুরক্ষা দেয়। CNN, MS NOW ও Politico-র পক্ষ থেকে আদালতে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত তাদের সংবাদ প্রকাশ ও সরকারের সমালোচনামূলক প্রতিবেদন করার কারণে নেওয়া হয়েছে। তিন গণমাধ্যমই দ্রুত তাদের হোয়াইট হাউসের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।
গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন CNN, MS NOW ও Politico-র সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। এরপর সোমবার তিন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে নয়, যৌথভাবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানায়। মামলাটি ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলির আদালতে যায়।
এই মামলায় বিচার বিভাগের সর্বশেষ অবস্থান হলো-প্রেসিডেন্টের হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ ও সংরক্ষিত এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ থাকলে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা যেতে পারে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো বলছে, সংবাদ প্রকাশের ধরন বা সরকারের প্রতি সমালোচনামূলক অবস্থানের কারণে কোনো সংবাদমাধ্যমকে সরকারি স্থাপনায় প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
মামলাটি নিয়ে বুধবার ফেডারেল আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। বিচারক টিমোথি কেলি তিন গণমাধ্যমের করা জরুরি নিষেধাজ্ঞার আবেদন শুনবেন। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে আপাতত এই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে তাদের নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরতে পারবেন কি না।
এদিকে, এই বিরোধের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আদালত যদি তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রায় দেয়, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে আবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। ফলে বিষয়টি এখন প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যকার বিরোধের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।