সারাবিশ্ব
নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য সাবেক আইসিসি বিচারক নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘোষণা আসে। আদালতটিকে ‘বিপথগামী’ প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়ে এটি ধ্বংস করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আইসিসির সঙ্গে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে আইসিসি। আদালতটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ পদক্ষেপ আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার ভিত্তির ওপর আঘাত। আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখেও আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হবে না।
এর আগে আইসিসির ১৭ জন বিচারক ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবারের পদক্ষেপে সরাসরি আদালতটিকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে আর্থিক লেনদেন এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আদালতটি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ কার্যকরের আগে ছয় মাসের ছাড়ের সময় দিয়েছে ওয়াশিংটন। এ সময়ের মধ্যে সদস্য দেশগুলো আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থ সহায়তা অব্যাহত রাখতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের উদ্বেগের সমাধান নিয়ে আলোচনার সুযোগ দিতেই এই সময় দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্কিন সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইসিসি।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস আদালতটির প্রতি তাদের অব্যাহত ও দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আইসিসি। বর্তমানে আদালতটির সদস্য দেশের সংখ্যা ১২৫টি। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আইসিসি এমন ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যারা বিশ্বায়নবাদী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছেন।
আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির অতীতের একটি তদন্তও ওয়াশিংটনের অসন্তোষের কারণ। যদিও আদালতটি ইতোমধ্যে ওই তদন্ত বন্ধ করেছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়েও ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিলের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
মার্কো রুবিও বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনোভাবেই আইসিসিকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইসিসি যদি তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আদালতটিকে ধ্বংস করে দেবে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো আইসিসিকে ব্যাংকিং সেবা, সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবা দিতে বাধার মুখে পড়বে।
রুবিওর ভাষ্য, আইসিসি ও এর সদস্য দেশগুলো মার্কিন উদ্বেগের সমাধান করবে, এমন প্রত্যাশা থেকেই নিষেধাজ্ঞা আরোপে দেরি করা হয়েছিল। অন্যান্য দেশকে সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনার সুযোগ দিতেই নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ কার্যকরের ক্ষেত্রে সময় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।