সারাবিশ্ব

ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, নিহত সহপাইলটের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, নিহত সহপাইলটের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ আরোহী। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ২০ বছর বয়সী সহপাইলট নাতালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস। দুর্ঘটনার ঠিক আগে আকাশ নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে তার কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশ্যে এসেছে। এতে তাকে বারবার ‘মে ডে’ বলে জরুরি সহায়তা চাইতে শোনা যায়।

রোববার (১ নভেম্বর) টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল ব্যক্তিগত বিমানটি। পরে দক্ষিণ ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার আগে নাতালিয়া জানান, বাইরের তাপমাত্রা মাইনাস ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ায় বিমানে বরফ জমছিল। এ সময় প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে বিমানটি প্রায় ৭০০ ফুট ওঠানামা করছিল।

একপর্যায়ে চিৎকার করে নাতালিয়া জানান, বিমানটি প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট নিচে নেমে যাচ্ছে। পরে তিনি আরও বলেন, বিমানটি অতিরিক্ত গতিতে নামছে এবং প্রতি মিনিটে ২০ হাজার ফুট নিচে নেমে যাচ্ছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মাটিতে আছড়ে পড়ে বিমানটি।

উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত হওয়ার মাত্র এক মিনিট আগে বিমানটি ২৭ হাজার ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল।

ব্রাজিলীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া নাতালিয়া ফ্লোরিডায় বসবাস করতেন। ২০২০ সালে তিনি পাইলট প্রশিক্ষণ শুরু করেন। তার বাবা তাকে বিমান চালানো শেখাতেন। ২০২৩ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী থাকতেই ব্যক্তিগত বিমান চালানোর লাইসেন্স পান নাতালিয়া।

তার মা ক্যামিলা গাদেলহা কোর্টেলেটি জানান, তার মেয়ে নয় মাস ধরে বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি ছিলেন দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী। তবে লাইসেন্সে বিমান চালানোর অনুমতি থাকলেও পুরো উড্ডয়ন পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার অনুমতি ছিল না তার।

নাতালিয়ার সৎবাবা থিয়াগো কোর্টেলেটির দাবি, তার মেয়ের ১ হাজার ৩০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। দুর্ঘটনার মাত্র ১০ মিনিট আগে প্রেমিককে পাঠানো বার্তায় প্রচণ্ড ঝাঁকুনি ও বিমানে বরফ জমার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

দুর্ঘটনায় নিহত সাত যাত্রীর মধ্যে ছিলেন অ্যাডাম রবিনসন, তার স্ত্রী হেলেন শার্প, তাদের চার বছর বয়সী মেয়ে এমা, দুই বছর বয়সী ছেলে চার্লি এবং শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা অনিতা মারিয়া সেটিনা। নিহত অন্য দুজন হলেন র‌্যাচেল রিড ও চার্মি ফেহর। এ ছাড়া দুই পাইলটও প্রাণ হারিয়েছেন। তবে অন্য পাইলটের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

নিহত অ্যাডাম রবিনসন ছিলেন একজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তিনি ইমেইল বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘রব্লি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ‘রিটেনশন ডটকম’-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। অস্টিন প্রযুক্তি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী থম সিঙ্গার তাকে শহরটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোক্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নিহত যাত্রীদের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাইলটদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানানো হয়েছে।