জাতীয়

প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য এআই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে: ববি হাজ্জাজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য এআই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে: ববি হাজ্জাজ
ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রযুক্তিনির্ভর হলেও প্রযুক্তি কখনো শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে না; বরং শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আয়োজিত ‘এমপাওয়ারিং টিচার্স ইন লো-রিসোর্স ক্লাসরুমস টু কো-ডিজাইন এডটেক ফর স্টুডেন্ট-সেন্টারড লার্নিং’ শীর্ষক বৈশ্বিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তবে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে প্রথমে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতায় দক্ষ করে তুলতে হবে। এ কারণে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য এআই, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে স্বল্প-সম্পদসম্পন্ন শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগকে আরও কার্যকর, সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পারে। এজন্য প্রযুক্তিকে শুধু ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজে লাগাতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবে থাকবেন না; বরং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে তাঁদের উদ্ভাবনী ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষের বাস্তব পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল এবং স্থানীয় প্রয়োজন-সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় আরও কার্যকর প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বৈশ্বিক এই সংলাপে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মালদ্বীপের শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. আহমেদ মোহামেদ, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) মহাসচিবের কার্যালয়ের স্ট্র্যাটেজিক এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভস বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভাইজার অ্যালেক্স ওয়ং এবং ইউনেস্কোর পলিসিজ অ্যান্ড লাইফলং লার্নিং সিস্টেমস বিভাগের পরিচালক বোরহানে চাকরুন।

এরপর নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের আয়োজনে ‘ফ্রম ক্লাসরুম টু ইকোনমি: মডার্নাইজিং বাংলাদেশের এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস-টার্নিং লার্নিং ইনটু জবস, এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইকোনমিক স্ট্রেংথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

সেখানে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা ও বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে পারে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কর্মমুখী শিক্ষা এবং শিক্ষাকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবর্তনশীল কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।