জাতীয়
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে জিপিই’র আরও অর্থায়ন চাইলেন গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের চলমান সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (GPE)-এর কাছ থেকে বৃহত্তর অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শুধু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই নয়, শ্রেণিকক্ষে তাদের প্রকৃত শিখন এবং ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা গড়ে তোলাকে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ECOSOC Chamber-এ অনুষ্ঠিত GPE-এর উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন ‘Multiply Possibility: A New Era for Education Financing’-এ অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ববি হাজ্জাজ। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন (UNGA81)-এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের আয়োজন করে ইতালি ও নাইজেরিয়ার জাতিসংঘে স্থায়ী মিশন এবং Global Partnership for Education (GPE)।
সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের অগ্রাধিকার ও সরকারের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও সংস্কার বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে সহযোগিতা করে আসা GPE-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনের সাইডলাইনে GPE-এর ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চার্লস নর্থের সঙ্গে বৈঠক করেন ববি হাজ্জাজ। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং চলমান বিভিন্ন উদ্যোগে GPE-এর সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে GPE-এর অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা এবং শিশুদের শিখনফল উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক শিশুর জন্য মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রয়োজনীয় দক্ষতায় দক্ষ করে তুলতে GPE-এর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে GPE-এর ডেপুটি সিইও চার্লস নর্থ বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের অগ্রাধিকার এবং চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে GPE-এর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি ইতিবাচক আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী GPE-এর সিইও লরা ফ্রিজেন্টি এবং ডেপুটি সিইও চার্লস নর্থকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তাদের বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের অগ্রাধিকার, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো সরেজমিনে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী শিক্ষায় টেকসই অর্থায়ন বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার এবং সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নতুন বিনিয়োগ ও প্রতিশ্রুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, শিক্ষামন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ, ফাউন্ডেশন এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ GPE-এর কাছ থেকে ৯৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান নিশ্চিত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্য ও অনুষ্ঠানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে GPE-এর অর্থায়ন আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের অংশগ্রহণ বলে জানানো হয়েছে। GPE-এর আগের অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষার মান, সমতা ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সহায়তা পেয়েছে।