জাতীয়

পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে প্রথম সভা আজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ এএম

পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে প্রথম সভা আজ
ছবি: সংগৃহীত

শ্রমিক অসন্তোষ, মজুরি বৃদ্ধির দাবি এবং একের পর এক কারখানা বন্ধের ঘটনায় চাপে রয়েছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। দীর্ঘদিনের মজুরি অসন্তোষ নিরসনে মজুরি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ বুধবার ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে শুধু সভা আয়োজন নয়, দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজিএমইএ, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রথম সভার মধ্য দিয়ে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি, মালিকপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা এবং শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

গত রোববার ১ নভেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ছয় সদস্যের এ মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন। একই দিন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, শ্রমিকদের দাবি, এই মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।

দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে বর্তমান মজুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন শ্রমিকরা। ফলে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় কতটা গুরুত্ব পায়, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা এলেও শ্রমিকদের আন্দোলন থেমে নেই। গত কয়েক দিন ধরে ঢাকা, মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের ৫২৯টি কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়। ওই দিন প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে মালিকপক্ষের মধ্যে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব মজুরি বোর্ডের সভা আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তারা অত্যন্ত আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, কারখানাগুলো চালু রাখার চেষ্টা চলছে। শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থে শ্রমিকদের ভাঙচুর ও বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার পাশাপাশি তা কার্যকরের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানোর দাবি রয়েছে। সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী, নতুন মজুরি কাঠামো ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা পোশাকশিল্পের চলমান সংকট নিরসনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তবে শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও মালিকপক্ষের সামর্থ্যের মধ্যে সমন্বয় করা সহজ হবে না। একদিকে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

তাই আজকের সভায় শুধু আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু নয়, নতুন মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে কী দিকনির্দেশনা আসে, সেদিকেই নজর থাকবে শ্রমিক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবার।