রাজধানী
উল্টো পথে কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল, সার্জেন্টের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে জিডি
উল্টো পথে গাড়ি চালানোর ঘটনায় জরিমানার মুখে পড়ে দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে অসদাচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার আংশিক ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আহসান হাবীব জুয়েলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ সার্জেন্ট মো. মহিউদ্দিন পুলিশ কন্ট্রোল রুমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। গত ২ নভেম্বর করা ওই জিডির নম্বর ৬১। মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল নিজের ফেসবুক পেজে এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে তার তর্ক হয়। পরে গাড়িতে বিআরটিএর নম্বর প্লেট না থাকার বিষয়টি সামনে এনে পুলিশ সদস্যের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান তিনি। পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্ট ও বিআরটিএর বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিতে শোনা যায় তাকে।
এদিকে, ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, সোমবার ২ নভেম্বর রাত ৯টা ৩০ মিনিটে একটি সাদা মাইক্রোবাস আসাদগেট পাম্প থেকে উল্টো পথে সড়ক অতিক্রম করছে। ওই স্থানে ‘রাস্তায় প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড ছিল। এ কারণে সড়ক পরিবহন আইনের ৮৭ ধারায় গাড়ির মালিক জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানান দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্ট মো. মহিউদ্দিন।
এ বিষয়ে সার্জেন্ট মহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, গাড়ির নম্বর প্লেট না থাকলেও মানবিক বিবেচনায় তিনি ৭২ ধারায় প্রসিকিউশন না দিয়ে সর্বনিম্ন জরিমানার বিধান থাকা ৮৭ ধারায় প্রসিকিউশন জমা দেন। তার ভাষ্য, নিষিদ্ধ স্থান দিয়ে ডানে মোড় নেওয়া, সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু জুয়েল ইচ্ছাকৃতভাবে তার ও সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং নিজের কনটেন্টে ভুল তথ্য পরিবেশন করেন।
পুলিশ সার্জেন্ট আরও বলেন, জুয়েল কনটেন্ট ক্রিয়েটর কি না, তা তিনি জানতেন না। আইন সবার জন্য সমান এবং আইন অনুযায়ীই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে ফেসবুকে গিয়ে তিনি দেখতে পান, জুয়েল পুরো ঘটনা প্রকাশ না করে কিছু অংশ তুলে ধরেছেন। উল্টো পথে গাড়ি চালানোর বিষয়টি ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়নি। এতে নিজের পাশাপাশি পুলিশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, ফেসবুকে প্রকাশ করা ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে জুয়েল বলেন, ঘটনাটি দীর্ঘ সময়ের। পুলিশ সদস্যরা তাকে বারবার ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেছিলেন। তবে দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্টকে হেয় বা হেনস্তা করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না।
জুয়েল আরও বলেন, তার আচরণে পুলিশ সার্জেন্ট কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। পুলিশ সদস্যরা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে থাকেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।