সারাদেশ

৫৪ বছর বয়সে এইচএসসি পাস, জিপিএ ৪.৬৩ পেয়ে চমক দেখালেন মজনু


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ এএম

৫৪ বছর বয়সে এইচএসসি পাস, জিপিএ ৪.৬৩ পেয়ে চমক দেখালেন মজনু
ছবি: সংগৃহীত

বয়স ৫৪ বছর। জীবনের নানা ব্যস্ততা, সংসারের দায়িত্ব ও ব্যবসা সামলেও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারাননি গাজীপুরের শ্রীপুরের ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন মজনু কাইয়া। দীর্ঘ ৩২ বছর পর আবারও পরীক্ষার হলে বসে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৬৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তার এ সাফল্য এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মো. আনোয়ার হোসেন মজনু কাইয়া শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিন কাইয়ার ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

১৯৭৩ সালে জন্ম নেওয়া মজনু কাইয়া ১৯৯১ সালে ত্রিমোহনী বিডি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে বরমী ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে উচ্চতর গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়নি তার।

দীর্ঘ এই সময়ে শিক্ষাজীবন থেমে গেলেও থেমে থাকেনি জীবনসংগ্রাম। পড়াশোনা ছেড়ে শুরু করেন মুরগি পালনের ব্যবসা। একে একে কেটে যায় ৩২ বছর। সংসার, ব্যবসা ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে আর পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার ইচ্ছা মনের মধ্যে রয়ে যায় তার।

একপর্যায়ে ৫৪ বছর বয়সে আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে গাজীপুরের পূবাইল টেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। এরপর একদিকে পোলট্রি ব্যবসা, অন্যদিকে সংসারের দায়িত্ব সামলে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন। অবশেষে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৬৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

বর্তমানে মজনু কাইয়া ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়া উচ্চবিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বয়স যে শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না, তারই একটি দৃষ্টান্ত।

মজনু কাইয়া বলেন, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী এবং যারা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের অনুপ্রেরণা জোগাতেই অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এবার স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো বয়সেই নতুন করে শুরু করা সম্ভব।

ছেলের আবার পড়াশোনা শুরু করা এবং ভালো ফল করায় আনন্দিত তার মা আনোয়ারা খাতুন। তিনি বলেন, ছেলে ভালো লেখাপড়া করছে, এটা সত্যিই গর্বের বিষয়।

শ্রীপুরের ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রজব আলী মোড়ল বলেন, লেখাপড়ার কোনো বয়স নেই। যেকোনো বয়সে শিক্ষা লাভ করা একজন মানুষের অধিকার। মজনু কাইয়া একজন শিক্ষানুরাগী। তিনি তাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্য। তার এই ফলে তারা গর্বিত।