সারাদেশ

সন্তানদের জমি লিখে দিয়েই বিপদে ৯৫ বছরের শামসুল, ঠাঁই হলো গাছতলায়


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৮ এএম

সন্তানদের জমি লিখে দিয়েই বিপদে ৯৫ বছরের শামসুল, ঠাঁই হলো গাছতলায়
ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লার ছয় সন্তানের বিরুদ্ধে। বৃদ্ধ বাবার দায়িত্ব নিতে রাজি নন কেউ। ফলে শেষ বয়সে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচেই আশ্রয় হয়েছে তার। সেখানেই কাটছে তার অসহায় দিন।

শামসুল হক মোল্লা উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। তার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা ফেরি করে পণ্য বিক্রি করেন এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। চার মেয়ের মধ্যে মায়া, সাবিনা ও সালমা বেগমের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে জমি বিক্রি করে হজে যান শামসুল হক। এ সময় অবশিষ্ট জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। তবে বর্তমানে বিপত্নীক এই বৃদ্ধের দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে রাজি নন তার সন্তানেরা। ছোট মেয়ে কাজুলী ছাড়া বাকি পাঁচ সন্তান নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত।

গত কয়েক দিন বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন শামসুল হক। মঙ্গলবার সকালে মায়া তাকে দুই ভাইয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দুই ভাই ও তাদের স্ত্রীরা মিলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে গাছের নিচে রেখে যান। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মায়া বেগম বলেন, তার স্বামী অসুস্থ। এ ছাড়া বাড়িতে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকেন। এ পরিস্থিতিতে বাবাকে নিজের কাছে রাখা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

মেজ মেয়ে সাবিনা বেগমের দাবি, জমি বিক্রি করে বাবা চার বোনকে চার লাখ টাকা করে দিয়েছেন। অন্যদিকে দুই ভাইকে নগদ টাকার পাশাপাশি আট কাঠা করে জমি দিয়েছেন। এখন বোনেরা কেন বাবার দেখাশোনা করবেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে শামসুল হকের দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুলের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের স্ত্রীরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের বাড়ির এক গৃহিণী বলেন, শামসুল হকের জমিজমা লিখে নেওয়ার পরও সন্তানেরা তাকে আশ্রয় দিচ্ছেন না। জমি লিখে না দিলে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সন্তানদের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে শামসুল হক বলেন, এখন কোথায় যাবেন, কী করবেন, কিছুই বুঝতে পারছেন না। সারাজীবন কষ্ট করে সন্তানদের বড় করেছেন। অথচ এখন তাদের কাছেই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফীন জানান, বিষয়টি শোনার পর তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। শামসুল হকের সন্তানেরা তার দেখাশোনা না করলে তাদের বিরুদ্ধে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।