প্রবাস
মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৭৯ অবৈধ অভিবাসী আটক
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের বাগান নাখোদো ওমর ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় যৌথ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৭৯ জন অবৈধ অভিবাসী এবং সাতজন স্থানীয় দালালকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গভীর রাতে পরিচালিত এ অভিযানে জেলেপাড়া ও জেটিগুলোতে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযানটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। সেলাঙ্গরের ডেপুটি চিফ অব পুলিশ ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ জাইনি আবু হাসান শুক্রবার (১২ জুন) ভোরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পুরো এলাকায় মোট ১২৫ জনের পরিচয় যাচাই করে এই আটক অভিযান চালানো হয়।
আটককৃতদের মধ্যে ২৮ জন অবৈধ অভিবাসী সমুদ্রপথে সদ্য মালয়েশিয়ার জলসীমায় প্রবেশ করেছিলেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ১০ জন নারীসহ মোট ৬৯ জন অভিবাসী রয়েছেন, যারা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের নাগরিক।
অভিযান শুরু হতেই অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা পালানোর চেষ্টা করে। গ্রেফতার এড়াতে সাতজন সাগরে ঝাঁপ দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা জেটির নিচে লুকিয়ে ছিলেন। পরে কোস্টগার্ড ও অন্যান্য বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং নৌকা ও জেটির কাঠামোর আড়ালে থাকা সবাইকে আটক করে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অভিবাসী চোরাচালান, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ, বৈধ কাগজপত্র না থাকা, অতিরিক্ত সময় অবস্থান এবং ভিজিট পাসের অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ জাইনি জানান, এই অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা অবৈধ অভিবাসীদের এনে জেলে হিসেবে কাজে লাগিয়ে শোষণ করছিল। চক্রটির কার্যক্রম একাধিক স্তরে পরিচালিত হওয়ায় তাদের নেটওয়ার্ক ও রুট চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে আটককৃতদের মধ্যে সাতজন দালালসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ‘অ্যান্টি-ট্রাফিকিং ইন পারসনস অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং অব মাইগ্রেন্টস অ্যাক্ট ২০০৭’-এর অধীনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এছাড়া অভিযানের সময় ডিজেল পাচারের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ‘সাপ্লাই কন্ট্রোল অ্যাক্ট ১৯৬১’-এর অধীনে আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।