ছাগলনাইয়ায় কলেজে ফরম পূরণে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ

২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:১৭ এএম | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:০৮ পিএম


ছাগলনাইয়ায় কলেজে ফরম পূরণে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ফেনীর ছাগলনাইয়া আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফরম পূরণে সরকার নির্ধারিত বোর্ড ফি ও কেন্দ্র ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফরম পূরণে সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা জানায়, দ্বিতীয় বর্ষ পড়ুয়া যেসব শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেননি তাদের কাছ থেকে প্রতি বিষয়ের জন্য ২০০ টাকা করে সর্বোচ্চ সাত বিষয়ের জন্য ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করে, ফরম পূরণের টাকার সঙ্গে কলেজের উন্নয়ন তহবিলের নামেও প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

কতজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, টেস্ট পরীক্ষায় মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেকেরও বেশি অংশ নেননি। তাদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

প্রতি বিষয়ের জন্য ২০০ টাকা করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথাটি স্বীকার করে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ মাহতাব হোসেন। তিনি জানান, এটি কলেজের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত।

এ বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দেশনা রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ জানান, টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের দূরত্ব বাড়ে। এ ছাড়াও এভাবে চললে পরবর্তীকালে অন্য শিক্ষার্থীরাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। তাই জরিমানা হিসেবে এ অর্থ আদায় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

তবে অধ্যক্ষ জানান, যেসব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জরিমানার টাকা আদায় করা হচ্ছে সে টাকা কলেজের সাধারণ তহবিলে জমা হয়।

এ বিষয়ে কলেজটির সহকারী অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন জানান, কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান ও ইসলামের ইতিহাসসহ ৮টি বিভাগে মোট ২৫৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে ১৭১জন টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। জরিমানা হিসেবে শুধু ৮৪ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতি বিষয়ে ২০০ টাকা নেওয়া হবে।

টেস্ট পরীক্ষা না দেওয়ার ফলে জরিমানা আদায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌমিতা দাশ বলেন, আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগে কলেজের গভর্নিং বডি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না সেটা আমি জানি না। সরকারি কোনো নির্দেশনা না থাকলে জরিমানা নেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানান।

এসএন

 


বিভাগ : সারাদেশ