সারাদেশ

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে আগাম আলু ও ধান খেত, নওগাঁর কৃষকদের দুশ্চিন্তা


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:১৪ পিএম

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে আগাম আলু ও ধান খেত, নওগাঁর কৃষকদের দুশ্চিন্তা
বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে আগাম আলু ও ধান খেত। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গতবছর আলু চাষ করে লোকসানে পড়েছিলেন নওগাঁর কৃষকরা। সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে চলতি মৌসুমে আগাম আলু চাষে ঝুঁকেছিলেন তারা। তবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ফসলি জমিতে পানি জমে গেছে।

কৃষকরা জানান, যেসব জমিতে আগাম আলুর বীজ রোপণ করা হয়েছিল, সেসব জমিতে পানি জমে বীজ পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা। ইতোমধ্যে অনেক জমিতে আলু বীজ নষ্ট হতে শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

শুধু আলু নয়, চলমান রোপা আমন ধান ও আগাম শীতকালীন শাকসবজিরও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, পানি দ্রুত নামানোর উদ্যোগ নিতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, জেলায় আমন ধান চাষ হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর জমিতে। আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে ১ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে। আলু চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার হেক্টর জমিতে। 

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আলু আবাদের জন্য কোথাও কোথাও প্রস্তুত করা হয়েছিল জমি, কোথায় সদ্য রোপণ করা হয়েছে বীজ। বৃষ্টিতে জমিতেই জমেছে পানি। ফসল বাঁচাতে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন কৃষকরা। শুধু আলু খেত নয়, আগাম জাতের শীতকালী ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মরিচ, বেগুন, মুলাসহ বিভিন্ন শাক-সবজির গাছও মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। যেসব খেতের সবজি এখনো ভালো রয়েছে, তা রক্ষায় প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন কৃষকেরা। এছাড়াও মাঠের আধা-পাকা ধান হেলে পড়েছে, গড়াগড়ি খাচ্ছে পানিতে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গেলো বছর আলুর ভালো দাম না পাওযায় এবছর ভালা লাভের আশায় আগাম আলু চাষ শুরু করেন কৃষকরা। তবে কয়েকদিনের বৃষ্টি হওযায় অলুর জমিতে পানি জমে। ফলে বৃষ্টির পানিতে একদিকে রোপণকৃত বীজ পচে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। অন্যদিকে অনাবাদী জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পর বীজ রোপণ কবে করা যাবে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। শীতকালীন শাক-সবজির জমিতেও দেখা দিয়েছে শিকড় পচে যাওয়ার। পানি দ্রুত না সরলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকেরা।

আত্রাই উপজেলা কালিকাপুর ডাঙ্গাপাড়া এলাকার কৃষক জয়নাল জানান, ‘গতবছর আলু চাষ করে অনেক লোকসান হয়েছে। ভাবলাম একটু আগাম আলু লাগালে ভালো দাম পাওয়া যাবে। সেই আশায় দেড় বিঘা জমিতে আলু বীজ রোপণ করে এক সপ্তাহ হয়নি। এরমধ্যে বৃষ্টি। এখন বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গাছ ঠিক মতো উঠতে পারে নাও পারে। কি করব ভেবে পাচ্ছি না।’

naogaon_rain1_Dhakaprokash.jpg

মান্দা উপজেলার ভারশো এলাকার কৃষক আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আগাম আলু চাষে কিছুটা ঝুঁকি থাকে। এলাকার কয়েকজন আলু লাগাইতাছে দেখে আমিও এক বিঘা জমিতে কয়েকদিন আগে লাগালাম। কয়েকদিনের থেমে থেমে বৃষ্টি হওযায় আলুর জমিতে পানি জমে। এতে করে রোপণকৃত বীজ পচে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।’

সদর উপজেলা বর্ষাইল এলাকার কৃষক রতন মোল্লা বলেন, ‘সবেমাত্র কিছুদিন আগে আলুর বীজ রোপণ করেছি। এরই মধ্যে বৃষ্টি। এখনও মাঝে মাঝে মেঘে ঢেকে আসছে। ঝির ঝির করে বৃষ্টিও পড়ছে। মাটির নিচে রোপণ করা আলুর বীজ একটু পানি পেলে পচে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ক্ষেত্রের অধিকাংশ আলু পচে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’

হাপানিয়া এলাকার সুশীল মিস্ত্রি বলেন, ‘ধান পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় আমন ধানের গাছ মাটিতে নুয়ে গেছে। এখনো ফসলের খেতের অনেক পানি জমে রয়েছে। দ্রুত পানি সরাতে না পারলে অনেক ক্ষতি হবে।’

কীর্ত্তিপুর এলাকার সবজি চাষি ইন্দ্রি মিয়া বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড় বৃষ্টি হচ্ছে। এতে ফুল কপিসহ বিভিন্ন সবজির গাছের গোড়ায় পচন দেখা দিয়েছে। অসময়ের বৃষ্টিতে কৃষকরা খরচের টাকাও তুলতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন, ‘বৃষ্টি হলেও ভারী বর্ষণ হয়নি। সবেমাত্র আলু রোপণ শুরু হয়েছে। যেসব জমিতে আলু লাগিয়ে ৮-১০ দিন হয়েছে সেগুলোর ক্ষতি হবে না। এছাড়া শীতকালীন সবজি ও ধানের খুব বেশি ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। ধানের জন্য বৃষ্টি কিছুটা আর্শীবাদ। খেত থেকে পানি সরে গেলে কোন সমস্যা হবে না।’