সারাদেশ
রেলস্টেশনে পা হারানো রায়হানের পাশে লোহাগাড়ার ইউএনও
ঢাকার রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় একটি চক্রের কবলে পড়ে ডান পা হারানোর পর দীর্ঘ প্রায় সাত মাস নিখোঁজ ছিল ১২ বছর বয়সী শিশু মো. রায়হান। অবশেষে বাবার কাছে ফিরে আসা চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি সাতগড় নয়াপাড়ার দিনমজুর নাজিমের এই অসহায় সন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রায়হানের মর্মান্তিক ঘটনা জানতে পেরে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রায়হানকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার চিকিৎসা, চলাচল, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রায়হানের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দৈনন্দিন চলাচল সহজ করতে তাকে একটি ট্রাইসাইকেল দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। এতে রায়হানের চলাফেরায় কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে আশা করছে প্রশাসন।
শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, রায়হানের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে উপজেলা প্রশাসন। তার পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তার শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
রায়হানের মর্মান্তিক ঘটনার কথা জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একজন শিশুর এভাবে ডান পা হারানোর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। ঘটনাটি তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
ইউএনও বলেন, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা জরুরি। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। রায়হান ও তার পরিবার অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার পাশে দাঁড়ানো উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রায়হানের চিকিৎসা, শিক্ষা, পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন তার পরিবারের পাশে থাকবে। তাকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রায়হানের মতো অসহায় শিশুর পাশে দাঁড়ানো শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি মানবিক দায়িত্বও। তার জীবনে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর নতুন করে জীবন গড়ার পথে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।
প্রায় সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর বাবার কাছে ফিরে আসা রায়হানের জীবনে এই সহায়তা কিছুটা হলেও স্বস্তি ও আশার আলো নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কীভাবে সে ঢাকার রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ওই চক্রের কবলে পড়েছিল এবং কীভাবে তার ডান পা হারানোর ঘটনা ঘটেছে-তা উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও স্থানীয়রা।