সারাবিশ্ব

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় চাপে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় চাপে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার। বিশেষ করে দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র, টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার দাবি করলেও একাধিক মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধের আগে যে পর্যায়ে অস্ত্রের মজুত ছিল, সেখানে ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক মজুতের প্রায় পুরোটা এটিএসিএমএস (ATACMS) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল বা পিআরএসএম (PrSM) ব্যবহার করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটির দাম ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

শুধু এটিএসিএমএস বা পিআরএসএম নয়, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্রুজ মিসাইলের মজুতেও বড় ধরনের চাপ পড়েছে। রয়টার্সের একটি সূত্রের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক টমাহক মজুতের অর্ধেকের সামান্য কম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

প্যাট্রিয়ট ও থাডের মজুত নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত নিয়ে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টরের যুদ্ধ-পূর্ব মজুতের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে ব্যবহার হয়ে গেছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বা সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, প্যাট্রিয়ট ও থাড—দুই ব্যবস্থার মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রায় ১ হাজার ইন্টারসেপ্টর অবশিষ্ট ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘাটতি সাধারণ আক্রমণাত্মক অস্ত্রের তুলনায় বেশি উদ্বেগজনক। কারণ প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্রুত বিকল্প তৈরি করা কঠিন। কোনো প্রতিপক্ষ যদি একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, তখন সেগুলো প্রতিহত করার জন্য পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর না থাকলে সামরিক ঘাঁটি, বিমানঘাঁটি, জাহাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

অস্ত্র উৎপাদন বাড়ছে, কিন্তু সময় লাগবে মজুত পূরণে

যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য অস্ত্রের ঘাটতি পূরণে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেছেন, দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অস্ত্র উৎপাদন করছে এবং বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে।

পেন্টাগনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনো প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা এবং সেনাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখার সক্ষমতাও রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যাটি শুধু অর্থ বা অস্ত্র কেনার সক্ষমতার নয়; সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সময়। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত কারখানা, উন্নত যন্ত্রপাতি, নির্দিষ্ট কাঁচামাল এবং বিপুলসংখ্যক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে হঠাৎ করে উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানো সহজ নয়।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে সিএসআইএসের একটি বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত টমাহক, প্যাট্রিয়ট ও থাডের মজুত যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে মার্কিন সামরিক ঠিকাদারদের অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে।

চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে এই চাপের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও। বিশেষ করে চীন ও তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে মার্কিন মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু ইরান যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় এসব দেশে অস্ত্র সরবরাহে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তাইওয়ানের কর্মকর্তারা বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বিলম্বের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জাপানের ক্ষেত্রেও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চীনের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধির কারণে। চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক মহড়া ও প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। ফলে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীদের উদ্বেগ রয়েছে।

সিএসআইএসের বিভিন্ন যুদ্ধ-অনুশীলনে দেখা গেছে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে। কিছু যুদ্ধ-অনুশীলনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্ভাব্য এমন সংঘাতে মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ৫ হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।

টমাহক মজুতেও বড় ধাক্কা

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহারের পরিমাণও বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের হিসাবে, যুদ্ধের প্রথম চার সপ্তাহেই ৮৫০টির বেশি টমাহক নিক্ষেপ করা হয়েছিল। পরে সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ব্যবহৃত টমাহকের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আনুমানিক ৩ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টমাহক ছিল বলে সিএসআইএসের তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। ফলে কয়েক মাসের সংঘাতে বিপুলসংখ্যক টমাহক ব্যবহার হওয়ায় ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

দূরপাল্লার অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আরেকটি কৌশলগত প্রভাবও রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে বড় আকারের ইরানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে হলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মানবচালিত বোমারু বিমানের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। কারণ দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেলে দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার বিকল্প কমে যায়।

সরকারি প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে অস্ত্র সংকটের ইঙ্গিত

এতদিন মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের সংকটের বিভিন্ন প্রতিবেদনকে গুরুত্ব না দিলেও সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সরকারি নজরদারি প্রতিবেদনে বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সরকারের ইন্সপেক্টর জেনারেলের একটি রিপোর্টে ইরান যুদ্ধের কারণে কৌশলগত অস্ত্রের মজুতে ঘাটতি তৈরি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে গোলাবারুদ উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও উঠে এসেছে ওই প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই সময়ে ৩০টি পর্যন্ত এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং সাতটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

পেন্টাগনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতায় সংকট নেই

তবে মার্কিন প্রশাসন পুরো পরিস্থিতিকে ‘অস্ত্রভাণ্ডার শেষ হয়ে যাচ্ছে’ হিসেবে দেখতে রাজি নয়। রয়টার্সকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশে প্রয়োজনীয় সময় ও স্থানে অভিযান পরিচালনার জন্য তাদের হাতে পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি অস্ত্র রয়েছে এবং দেশটির প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো রেকর্ড মাত্রায় অস্ত্র উৎপাদন করছে।

তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের জায়গাটি ভিন্ন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার একেবারে শূন্য হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং মূল সমস্যা হলো-দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চলতে থাকলে অস্ত্র ব্যবহারের গতি যদি উৎপাদনের গতিকে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে মজুত দ্রুত পুনর্গঠন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সামনে বড় পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শুধু একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার পরীক্ষা নয়; এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির অস্ত্র উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৌশলগত মজুত ব্যবস্থারও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র এবং টমাহক, এটিএসিএমএস ও পিআরএসএমের মতো দূরপাল্লার অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে গেলে ভবিষ্যতে একসঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

যদি যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠনে সত্যিই কয়েক বছর সময় লাগে, তাহলে এই সময়টিই ওয়াশিংটনের জন্য একটি কৌশলগত ‘ঝুঁকির সময়সীমা’ তৈরি করতে পারে। কারণ এই সময়ে চীন, রাশিয়া কিংবা অন্য কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সীমিত অস্ত্রের মজুত, দীর্ঘ উৎপাদন-সময়সীমা এবং মিত্রদের অস্ত্র সরবরাহের চাপ-সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হতে পারে।

ফলে ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলায় একটি দেশের অস্ত্রভাণ্ডার কতটা টেকসই এবং দ্রুত পুনর্গঠনযোগ্য-সেই প্রশ্নটিই এখন সামনে চলে এসেছে।