সারাবিশ্ব
সৌদিতে হুতিদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, জেদ্দাসহ ৬ শহরে সতর্কতা
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। একের পর এক হামলার ঘটনায় দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালকি মঙ্গলবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সোমবার সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফের বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলায় আহতদের কয়েকজনের আঘাত সামান্য থেকে মাঝারি মাত্রার বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হামলার পর সম্ভাব্য নতুন আক্রমণের আশঙ্কায় সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে সতর্কতা জারি করেছে। সতর্কতার আওতায় রয়েছে আবহা, জেদ্দা, জাজান, তাইফ, ইয়ানবু ও আল-উলা। এসব এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। জোটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের হামলা চালানোর মাধ্যমে হুতিরা বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জোটের যৌথ বাহিনী প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। হামলার উৎস ও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবে হুতিদের হামলা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও দেশটির বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। গত সপ্তাহের হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল বলে জানা গেছে।
শুক্রবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে কয়েক দফা ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। ওই হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সৌদি আরব সাময়িকভাবে দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেল পরিবহন পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় হামলার প্রভাব শুধু বেসামরিক এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
হুতিদের ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তারা।
এদিকে, নতুন করে জেদ্দাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে সতর্কতা জারির পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য যেকোনো হামলা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।