অর্থনীতি

বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সালমান এফ রহমান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ এএম

বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সালমান এফ রহমান
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হয়েছেন কোম্পানিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তাকে বাদ দিয়ে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে চিঠি দিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা। পর্ষদ পুনর্গঠনের বিষয়ে কমিশনের সম্মতিও পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

কোম্পানির চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বেক্সিমকো যে প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সালমান এফ রহমান পর্ষদ থেকে পদত্যাগে রাজি হয়েছেন। তার কারণে কোম্পানির ব্যবসা ও শেয়ারধারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি বিবেচনা করেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

নতুন পর্ষদে থাকবেন ৯ পরিচালক

সালমান এফ রহমানকে বাদ দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। প্রস্তাবিত পর্ষদে বেক্সিমকো ফার্মার উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে তিনজন, চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংকের মনোনীত একজন এবং পদাধিকারবলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকবেন।

বেক্সিমকো ফার্মা একই সঙ্গে দেশের শেয়ারবাজার ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের বিকল্প বিনিয়োগ বাজারে তালিকাভুক্ত। ফলে পর্ষদ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়মও অনুসরণ করতে হবে কোম্পানিটিকে।

কোম্পানির পক্ষ থেকে কমিশনকে জানানো হয়েছে, নতুন পরিচালক নিয়োগের আগে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়ম অনুযায়ী তাদের যথাযথ যাচাই-বাছাই করতে হবে। এ প্রক্রিয়া শেষ করতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও সম্মতি

বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ পুনর্গঠনের পরিকল্পনায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কমিশন চেয়েছিল, নতুন পর্ষদে বিদেশি শেয়ারধারীদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হোক। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এতে সম্মতি দেননি। ফলে বিদেশি প্রতিনিধি না রেখে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সালমান এফ রহমান পর্ষদ থেকে সরে গেলে বেক্সিমকো ফার্মার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাদের মতে, তার মালিকানা ও প্রভাবের কারণে কোম্পানিটির সুনাম ও ব্যবসায় যে চাপ তৈরি হয়েছে, পর্ষদ থেকে তার সরে দাঁড়ানো সেই চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়তে পারে।

মুনাফায় বেক্সিমকো ফার্মা

বেক্সিমকো ফার্মার সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১৫ টাকা ৫৬ পয়সা হিসেবে মোট ৬৯৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর আগে ২০২৪ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ৬৯৪ কোটি টাকা।

১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো ফার্মার উদ্যোক্তাদের হাতে রয়েছে কোম্পানিটির ৩০ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার। উদ্যোক্তাদের মধ্যে সালমান এফ রহমানও রয়েছেন। বাকি প্রায় ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক, বিদেশি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।