সারাদেশ

প্রচলিত নিয়ম ভেঙে বিজয় দিবস পালন: গোবিন্দগঞ্জ ইউএনওর ভূমিকা নিয়ে বিএনপির প্রতিবাদ


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০০ পিএম

প্রচলিত নিয়ম ভেঙে বিজয় দিবস পালন: গোবিন্দগঞ্জ ইউএনওর ভূমিকা নিয়ে বিএনপির প্রতিবাদ
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় মহান বিজয় দিবস পালনের ক্ষেত্রে প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে-এমন অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

দলটির নেতারা দাবি করেছেন, ইউএনও ইচ্ছাকৃতভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচি সাজিয়েছেন, যা প্রশাসনিক শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী।

আজ ১৬ ডিসেম্বর ভোরে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের গরুহাটি এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, শহীদদের স্মরণে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এক মিনিট নিরবতা পালন না করা এবং বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানের পুষ্পস্তবক অর্পণের সুযোগ না দিয়েই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত শেষে কর্মসূচি দ্রুত সমাপ্ত করেন।

এতে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হৈচৈ ও হট্টগোল শুরু হয়। দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভঙ্গ করে এক মিনিট নিরবতা পালন না করায় উপস্থিত ব্যক্তিরা ইউএনওর ভূমিকার প্রতিবাদ জানান।

এ সময় বিক্ষুব্ধরা ইউএনওকে লক্ষ্য করে “রাজাকারের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি ইউএনও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা কোনো বক্তব্য না দিয়েই উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনার ত্যাগ করে উপজেলা কার্যালয়ে চলে যান।

পরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তারা এক মিনিট নিরবতা পালন এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফারুক আহাম্মেদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, “উপজেলা প্রশাসনের আজকের সব কর্মসূচি উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন বয়কট করেছে।”

ঘটনাটি নিয়ে গোবিন্দগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, জাতীয় দিবস পালনে প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভূমিকা পালন করা, যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আর না ঘটে।