সারাদেশ
বঙ্গোপসাগরে দস্যু হামলা: ২০ জেলে অপহরণ, আতঙ্কে উপকূল
বঙ্গোপসাগরের পৃথক দুটি এলাকায় ২০ জন জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। সোমবার দিবাগত রাতে নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার খাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম।
বন বিভাগ ও জেলে সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে দুবলাচর সংলগ্ন নারিকেলবাড়ীয়া চর এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলেদের ওপর হামলা চালায় অজ্ঞাত পরিচয়ের একদল বনদস্যু। তারা আটটি ট্রলার থেকে ৮ জন জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। অপহৃতরা হলেন— হরিদাস বিশ্বাস (৫০), গোপাল বিশ্বাস (৪৫), রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস (৩৫), তুষার বিশ্বাস (৪০), মনিরুল বিশ্বাস (৪৮) ও উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। তাঁদের সবার বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলায়।
একই রাতে দুবলাচর এলাকার আমবাড়ীয়ার খাড়িতে আরেকটি জেলে বহরে হামলা চালায় বনদস্যু ‘সুমন-জাহাঙ্গীর বাহিনী’। অস্ত্রের মুখে সেখান থেকে আরও ১২ জন জেলেকে অপহরণ করা হয়। অপহৃতরা হলেন— কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রুপ কুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। তাঁদের বাড়ি পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়।
দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, সুন্দরবন ও সাগর এলাকায় বর্তমানে চারটি বনদস্যু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুদের দাপটে জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অনেক জেলে পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, অপহরণের ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পর বনরক্ষীদের টহল জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।