সারাদেশ

স্কুলছাত্রী তানজিম হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

স্কুলছাত্রী তানজিম হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার খালাশাশুড়ি ও বোনজামাইকেও আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগরী থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

গ্রেপ্তার সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার তাজুল ইসলামের মেয়েকে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন। বাগমারা এলাকার মনির হোসেনের মালিকানাধীন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়ায় চালাতেন তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সুমনের জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল না। এমনকি তিনি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতেন না বলে জানা গেছে। ফলে তার অবস্থান শনাক্ত করতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। ঘটনার পর থেকেই তাকে খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছিল।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। অটোরিকশাটি জব্দ করার পর সেটির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে চালক সুমনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম একটি ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে তার কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নামে সে। এরপর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। তবে হত্যার কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।