সারাদেশ
যশোরের শার্শায় ‘লাইট ইনডোর’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ, অমৌসুমে তিন গুণ ফলন
রাতের আঁধারেও যেন দিনের আলো। এমন কৃত্রিম আলোর ঝলকানিতে যশোরের শার্শার বেনাপোলে চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল। ‘লাইট ইনডোর’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে কৃষকদের সামনে খুলেছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। লাভবান হচ্ছেন চাষিরা, বাড়ছে চাষের পরিধিও।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আধুনিক ইনডোর লাইটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অমৌসুমে ড্রাগন চাষে রীতিমতো সাড়া ফেলেছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। শীতকালে কুয়াশা ও কম আলোয় যখন স্বাভাবিক ফলন কমে যায়, তখন কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে প্রায় তিন গুণ ফলন পাচ্ছেন তারা। এতে শার্শার কৃষি খাতে সূচিত হয়েছে নতুন দিগন্ত।
দশ বিঘা জমিতে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা একটি বাগান থেকে বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা যায়। মাসিক ব্যয় হয় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা। একটি ড্রাগন বাগান টানা প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত ফলন দেয় বলে জানিয়েছেন চাষিরা। লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। কৃত্রিম আলোকরশ্মি ড্রাগন গাছে ফুল ধরতে সহায়ক হচ্ছে এবং একই সঙ্গে তৈরি করছে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ।
প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা এবং শেষ রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সচল থাকে। শীতকালেও গাছে ফুল ও ফল ধরে। আলোকসজ্জায় সাজানো এই বাগান এখন দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, বেনাপোলের সরবাংহুদা এলাকায় ‘লতা সাহেব’ নামে এক ব্যবসায়ী ১২ বিঘা জমিতে লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছেন। গরমের ফল হলেও শীতকালে ফলন আনতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ড্রাগন উৎপাদন হচ্ছে। মহেশপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ থেকে ব্যবসায়ীরা এসে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে ড্রাগন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে প্রতিদিন প্রায় ৭৫ হাজার টাকার বিক্রি হচ্ছে। মৌসুম এলে ফলন ও দাম—দুটিই বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
ড্রাগন চাষি আবেদুর রহমান বলেন, লাইটিং বা কৃত্রিম আলোর মাধ্যমে ড্রাগন চাষে ভরা মৌসুমে যে দাম পাওয়া যায়, অমৌসুমে ফলন ধরাতে পারলে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লাভে বিক্রি করা সম্ভব। তিনি বলেন, লতা সাহেব আমার মামা। তিনি এই ১২ বিঘা জমিতে লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছেন। আমি তাঁর বাগানটি দেখাশোনা করি। এ বাগান করতে মোট ৭০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অমৌসুমে লাইটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ড্রাগন ফল পাচ্ছি, যার বাজারমূল্য ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। মৌসুম এলে, অর্থাৎ গরমকালে, ফলন আরও দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। তখন প্রতিদিন আরও বেশি টাকার ফল বিক্রি হবে। নানান প্রতিকূলতা কাটিয়ে এখন আমরা সফলতার মুখ দেখছি। এই এলাকার অনেকেই এই পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করার কথা বলছেন। আমাদের বাগান ছাড়াও এ উপজেলার আরও অনেক জায়গায় একই পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের আবাদ হচ্ছে। অমৌসুমে উৎপাদিত ড্রাগনের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেকেই লাইটিং পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।