সারাদেশ

নওগাঁয় যুবদল নেতার ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেন আরেক যুবদল নেতা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

নওগাঁয় যুবদল নেতার ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেন আরেক যুবদল নেতা
নওগাঁ উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল। ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর মান্দায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আট লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী এমদাদুল হক পিন্টু পরানপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য। এ ঘটনায় প্রতিকার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা চেয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগের অনুলিপি যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ জুন মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক সমিতির মুহুরি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এমদাদুল হক পিন্টুর স্ত্রীর কাছ থেকে আট লাখ টাকা নেন আব্দুল জলিল। তবে নির্ধারিত সময়ে চাকরির ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। পরে টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন পিন্টু।

একপর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি জানতে পেরে মধ্যস্থতা করেন। তাদের মধ্যস্থতায় দুই লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ছয় লাখ টাকা এখনো ফেরত পাননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

এমদাদুল হক পিন্টু জানান, চাকরির আশায় চাষের জমি বন্ধক রেখে এবং স্ত্রীর সোনার গয়না বন্ধক দিয়ে টাকা জোগাড় করেছিলেন তিনি। নিজ দলের নেতার এমন প্রতারণার শিকার হয়ে এখন পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পাশাপাশি ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

পিন্টু আরও জানান, গত ২০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচিতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পরও নিজ দলের নেতার কাছ থেকে এমন পরিস্থিতির শিকার হওয়ায় হতাশ তিনি। আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মান্দা উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল। তার দাবি, রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের অংশ হিসেবে তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু জানান, অভিযোগের অনুলিপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, যুবদল সভাপতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।