সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
Dhaka Prokash

উজ্জীবিত তৃণমূলকে চাঙা রাখাই বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ

সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনসমর্থন আদায়ে সারাদেশে বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে গণসমাবেশ শেষ করেছে দলটি। বাকি আছে সিলেট, কুমিল্লা ও রাজশাহীর বিভাগীয় গণসমাবেশ। এরপর ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। সেই লক্ষ্যে অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর আবেদন করেছে দলটি।

সম্পূর্ণ এককভাবে গণসমাবেশগুলো করছে বিএনপি, যাকে ‘কৌশলগত’ বলছেন দলটির নেতারা। বাধা সত্ত্বেও বিভাগীয় গণসমাবেশে জনস্রোত প্রমাণ করে বিএনপি এককভাবেই অনেক শক্তিশালী ও জনপ্রিয় একটি দল। প্রতিটি সমাবেশে প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি নেতা-কর্মীর সমাগম হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও বেড়েছে বলে মনে করছেন নেতারা। এমনকি গণসমাবেশের আগে যারা আন্দোলন ইস্যুতে বিএনপিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলতেন, এখন আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তারাও এগিয়ে আসতে চাইছে। যদিও আগামী নির্বাচন সামনে রেখে জোটে থাকা ভোট সঙ্গী জামায়াতকে বাদ দিয়ে একক আন্দোলন রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ কি না তা নিয়েও নানা মহলে আলোচনা চলছে। হঠাৎ করে বিদেশি কূটনীতিকদেরও যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে দেখা গেছে।

বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এখন অনেকটাই চাঙা মনোভাবে। দাবি আদায়ে বিভেদ ভুলে আত্মত্যাগের মানসিকতা নিয়ে সবাই রাজপথে নামছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াকেও কর্মীদের উজ্জীবিত হওয়ার কারণ হিসেবে দেখছেন বিএনপির হাইকমান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত এদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ধরে রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন কেউ কেউ। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, এবার দাবি আদায় ছাড়া ঘরে ফিরবে না কেউ। আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ায় উজ্জীবিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

তবে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, জনসমাগম বাড়লেও আগামী দিনের কর্মসূচি ও ধরন নিয়ে সতর্ক বিএনপি। আগামী নির্বাচনের এখনো প্রায় ১৩ মাসের বেশি সময় আছে। ফলে, এই মুহূর্তে বড় কর্মসূচি দিয়ে দীর্ঘ সময় টেনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আর এ ধরনের কর্মসূচি দিলে সরকারের দমন-নিপীড়নও বাড়বে। তাই নিরপেক্ষ সরকারের দাবি, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন, সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবিতে অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি।

১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। এ সময়ে একাধিকবার নানা ইস্যুতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দিলেও সফল হতে পারেনি দলটি। আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। এর নেপথ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতাকে দায়ী করে আসছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেন্দ্র ঘোষিত তৃণমূলের কর্মসূচিতে সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলায় জেলায় দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। শুধু কর্মসূচি পালন নয়, তৃণমূলের কোথাও কোনো কোন্দল রয়েছে কি না- তা নিরসনেরও দায়িত্ব দেওয়া হয় তাদের। প্রতিটি কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাহস জোগাচ্ছে। যারা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিল তারাও কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের ইউনিয়ন পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সিনিয়র নেতারা। এতেও তাদের মধ্যে একটা উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে আহত ও নিহত নেতা-কর্মীদের পরিবারের পাশে সেভাবে দাঁড়ায়নি কেন্দ্র। কিন্তু এবারের চিত্র উলটো। বিগত সময় যারা নিহত ও আহত হয়েছে তাদের প্রত্যেক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে হাইকমান্ড। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে অনেকে ঝুঁকি নিয়েই নামছেন রাজপথে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি এককভাবে বিভাগীয় গণসমাবেশের কর্মসূচি দিয়ে নিজেদের শক্তি জানান দিচ্ছে। এতে একদিকে বিদেশি শক্তিগুলো বিএনপির দিকে নজর রাখছে। পাশাপাশি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের (বিএনপি) দিকে ঝুঁকবে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, বিভেদ ভুলে আত্মত্যাগের মানসিকতা তৈরি হয়েছে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে। দীর্ঘ বিরতি ভেঙে রাজপথে ফিরেছে বলেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা চাঙা, উজ্জীবিত। এটি হতে পারে আগামীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের রসদ। চলমান গণসমাবেশ কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করেছে। সমাবেশে লুটপাটসহ ব্যর্থতার দায়ে এখনই ক্ষমতাসীনদের পদত্যাগের যেমন বার্তা রয়েছে, তেমনি আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়েও নতুন বার্তা দেওয়া হয়েছে।

নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত রাখার জন্য আপাতত সরকারবিরোধী সব দলের সঙ্গে আলোচনা করেই সরকার পতনের কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে বিএনপি। নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনসম্পৃক্ত করার উপর জোর দিচ্ছে দলটি। হামলা-মামলার শিকার ও হতাহত হওয়ার পরেও মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

তৃণমূলের নেতারা বলছেন, গণসমাবেশের মধ্যে দিয়ে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। একই সঙ্গে যে দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে তাও জনগণের দাবিতে পরিণত করতে পেরেছে। ফলে জনগণ এখন বিএনপির ডাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। তবে সমাবেশের পরই বাড়ছে মামলার সংখ্যা।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকাপ্রকাশ বলেন, গণসমাবেশ শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মী মাঝে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। সরকার কর্মসূচিতে নানাভাবে উসকানি ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আশা করি নেতা-কর্মীরা সরকারের কোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নেতা-কর্মীদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি চলে আসছে। সেটাতো দমানো যায় না। কোনো শক্তি সেটাকে দমাতে পারে না। এ সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে। আন্দোলন সফল না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূল নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে থাকবে বলেও প্রত্যাশা করছি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, দাবি আদায়ে অবিচল থেকে তৃণমূল থেকে দলকে সুসংগঠিত করে ঐক্যবদ্ধ রাখা বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। এবার তৃণমূলে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হচ্ছে। বেশিরভাগ জায়গায় কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি দেওয়া হচ্ছে। ৮২টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৫২টিতে এরই মধ্যে কমিটি করে পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সাবেক ছাত্রদল নেতাদের উচ্চপদে আনা হয়েছে। তৃণমূল বিএনপির বড় ভরসা। এত বাধা-সংকটের পরও তারা সফল গণসমাবেশ করছেন। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা পায়ে হেঁটে সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশস্থলেই রাত কাটান। এমন বড় জমায়েত সাংগঠনিক দক্ষতার কারণেই সম্ভব হচ্ছে। তৃণমূল আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। যেকোনো সময় কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রস্তুত আছে।

তিনি বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে উজ্জীবিত বিএনপি। চাঙা নেতা-কর্মীরা। হামলা-নির্যাতন সব বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে বাড়ছে তাদের উপস্থিতি। গণসমাবেশ রূপ নিচ্ছে জনস্রোতে। এতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে আস্থা ও আত্মবিশ্বাস।

বিএনপির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা বলেন, দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যারা ব্যর্থ হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৃণমূল নেতা-কর্মীদেরও চাপ আছে। নেতা-কর্মীরা চান সাংগঠনিক জেলা শাখায় যেন সঠিক নেতৃত্ব দেওয়া হয়। তা না হলে নেতা-কর্মীদের কাজে গতি আসে না। এতে করে দলও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবকিছু বিবেচনা করেই নিষ্ক্রিয়দের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছেন বিএনপি হাইকমান্ড।

দুই মাসের বেশি সময় দেশব্যাপী লাগাতার কর্মসূচির পর গত ১২ অক্টোবর থেকে বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও সবশেষ ফরিদপুরে গণসমাবেশ করে দলটি। ওই গণসমাবেশের পর বিভিন্ন অভিযোগে বিএনপি নেতা-কর্মীদের আসামি করে মামলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ বিএনপির।

এসএন

Header Ad

পরিচয় জানা গেল ৪০০ কোটি টাকার মালিক সেই পিয়নের

জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: সংগৃহীত

চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিজের বাসার পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তারপর থেকেই এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কে সেই পিয়ন, কি তার পরিচয়। সকল মহলে এখন এই পিয়ন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অবশেষে তার পরিচয় মিলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার পরিচয় নিয়ে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া না হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র দাবি করছে, সেই পিয়নের নাম জাহাঙ্গীর আলম। তাকে নিয়ে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। তার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

জাহাঙ্গীর আলম প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মচারী হিসেবে একসময় কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের দুই মেয়াদের পুরোটা সময় এবং প্রধানমন্ত্রীর টানা তৃতীয় মেয়াদেরও কিছু সময় ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যাগ বহন করতেন, প্রধানমন্ত্রীর খাবার সামনে এগিয়ে দিতেন এবং অন্যান্য ফাই-ফরমাশ খাটতেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি যখন বিরোধী দলে তখন থেকেই জাহাঙ্গীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় যেতেন সেখানেও জাহাঙ্গীরকে দেখা যেত। আস্তে আস্তে জাহাঙ্গীরের একটি রাজনৈতিক বলয় তৈরি হয়ে যায়।

জাহাঙ্গীরের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিলে। সেই সময় তার আমন্ত্রণে সরকারের অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে নোয়াখালীর চাটখিলে বিভিন্ন কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন। যার কিছু ছিল জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত আয়োজনের অনুষ্ঠানে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর আরেক পিয়ন আবদুল মান্নানকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার ব্যবহারের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

গণভবনে থাকার সময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের চেয়েও ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলেন। আওয়ামী লীগের কিছু কিছু ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ, গণভবনে থাকেন, তাকে বলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যায় ইত্যাদি ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে জাহাঙ্গীরের প্রতি আলাদা ‘সমীহ’ দেখাতে শুরু করেন। তাদের কেউ কেউ জাহাঙ্গীরকে ‘স্যার’ ডেকেছেন বলেও শোনা যায়। এমনকি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাও জাহাঙ্গীরের কাছে তদবির করতেন। এই জাহাঙ্গীর গণভবনে থেকে বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন তদবির করতেন। এভাবে আস্তে আস্তে বিত্তশালী হয়ে ওঠেন এই কাজের লোক। পরবর্তীতে অবশ্য গণভবন থেকে রেবিয়ে যাওয়ার পর এখন তাকে রাজনীতিতে দেখা যায় না।

তবে জাহাঙ্গীর আলম প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মচারী হলেও তিনি নিজের পরিচয় দিতেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিশেষ সহকারী। এই পরিচয় ব্যবহার করে নিয়মিত সচিবালয়ে তদবির বাণিজ্য করতেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে নানান তদবির করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। একই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদও বাগিয়ে নিয়েছিলেন। নোয়াখালী-১ সংসদীয় আসনে নিজের একটি রাজনৈতিক ব্লকও তৈরি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন যে, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবহিত এবং জাহাঙ্গীরের ব্যাপারে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই তার সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে জাহাঙ্গীর এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কি কারও নাম বলেছেন? তিনি ড্রাইভারের (সৈয়দ আবেদ আলী) কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তো পিয়ন বলেছেন। সে সময় দুজন পিয়ন চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। এর মধ্যে একজন আপনি, আরেকজন আবদুল মান্নান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সেই পিয়ন আপনি। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি এটা জানি না। আমি কইতে পারব না।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনেছেন কি না— জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, না না, আমি তো শুনি নাই। এইমাত্র আপনার কাছে শুনলাম।

চতুর্থবারের মতো নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন কেপি শর্মা অলি

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। ছবি: সংগৃহীত

মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ড আস্থাভোটে হেরে যাওয়ার পর নেপালে নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে। এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন দেশটির তিনবারের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি।

কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল তাকে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। সোমবার নতুন মন্ত্রিসভার সঙ্গে অলিও শপথ নেবেন।

দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে তিনি প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হলেন। ‘চীনপন্থী’ অলি কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনিফায়েড মার্কসিস্ট লেনিনিস্ট)-এর প্রধান। শের বাহাদুর দেউবার নেতৃত্বাধীন নেপালী কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে তিনি ফের কাঠমান্ডুর কুর্সিতে ফিরলেন।

পুষ্প কমল দাহাল শুক্রবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে আস্থা ভোটে হেরে যান। ফলে দেশটির সংবিধানের ৭৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নেপালী কংগ্রেসের ৮৮ জন, ইউএমএল-এর ৭৮ জনসহ ১৬৬ জন আইন প্রণেতার সমর্থনের পর প্রেসিডেন্ট পাউডেল অলিকে সংবিধানের ৭৬(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে নিয়োগ দেন।

৭২ বছর বয়সী কে পি শর্মা অলি এর আগে ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট পর্যন্ত, ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের মে মাস ও ২০২১ সালের মে মাস থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সূত্র: দ্য কাঠমুন্ডু পোস্ট

দেশে বিবাহিত বেশি রাজশাহীতে, অবিবাহিত সিলেটে

প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৬৫ শতাংশ মানুষ বিবাহিত। এর মধ্যে বিবাহিতের হার সর্বোচ্চ ৬৯ শতাংশ রাজশাহী বিভাগে। অন্যদিকে এ জনগোষ্ঠীর হার সর্বনিম্ন ৫৫ শতাংশ সিলেট বিভাগে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আর্থ-সামাজিক ও জনমিতিক জরিপ-২০২৩’র বৈবাহিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের ২১ মে থেকে ২২ জুন পর্যন্ত দেশের ১২ হাজারেরও বেশি এলাকার প্রায় দুই লাখ ৯৯ হাজার পরিবারের ওপর এই জরিপ চালানো হয়।

বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষের হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে, প্রায় ৪৫ শতাংশ। অপরদিকে রাজশাহী বিভাগে অবিবাহিত পুরুষ সবচেয়ে কম, ৩১ শতাংশ। পাশাপাশি সিলেট বিভাগে অবিবাহিত নারী সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে, রাজশাহীতে এ হার সবচেয়ে কম, ১৮ শতাংশ।

প্রতিবেদন বলছে, নারীর চেয়ে পুরুষের একাধিক বিয়ের হারও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৪ শতাংশ পুরুষ একবারের বেশি বিয়ে করেছেন। বিপরীতে ১ শতাংশের বেশি নারী একবারের বেশি বিয়ে করেছেন। পাশাপাশি বিপত্নীক হিসেবে ১ শতাংশের কিছু বেশি পুরুষ একা জীবনযাপন করছেন। অন্যদিকে, প্রায় ৯ শতাংশ নারী বিধবা হিসেবে জীবনযাপন করছেন।

বৈবাহিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে জরিপে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৬৫ শতাংশ বিবাহিত। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে বিবাহিতের হার সর্বোচ্চ ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে বিবাহিত জনগোষ্ঠীর হার সর্বনিম্ন ৫৫ শতাংশ।

বিবিএস প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম শুমারিতে দেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৫ লাখ। এরপর ১৯৮১ সালে জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬৫ জনে। ১৯৯১ সালে দেশে মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ কোটি ৬৩ লাখে।

সর্বশেষ সংবাদ

পরিচয় জানা গেল ৪০০ কোটি টাকার মালিক সেই পিয়নের
চতুর্থবারের মতো নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন কেপি শর্মা অলি
দেশে বিবাহিত বেশি রাজশাহীতে, অবিবাহিত সিলেটে
শাহরুখ খানসহ ২৫ বরযাত্রীকে ২ কোটি টাকার ঘড়ি উপহার দিলেন অনন্ত
কোটা সংস্কারসহ এক দফা দাবিতে টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও স্মারকলিপি প্রদান
‘বাংলা‌দেশ থে‌কে ৩ হাজার কর্মী নে‌বে ইতালি, জার্মানি, গ্রিস ও রোমানিয়া’
২০২৪ কোপা আমেরিকা ও ইউরোর প্রাইজমানি কত?
আমার পিয়নের কাজ করেছে, সেও ৪০০ কোটি টাকার মালিক: প্রধানমন্ত্রী
মেয়ের বিয়ের ‌‘যৌতুক’ হিসেবে বিসিএস’র প্রশ্নপত্র দেন পিএসসির সাবেক মেম্বার!
বিরামপুরে চালকলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যু
পার্লারের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ আটক ৫৬
রেলওয়ের ৪০ শতাংশ পোষ্য কোটা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
২ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেবে চীন: প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা
ট্রাম্পের ওপর হামলায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যে কারণে আম্বানিপুত্রের বিয়েতে যাননি আমির-অক্ষয়-কারিনা-বিরাটরা
আনুষ্ঠানিক বিদায়ে ডি মারিয়াকে বিশেষ জার্সি উপহার
৭ অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ের আভাস, বাড়বে তাপমাত্রা
বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সার্টিফিকেট তৈরির মূলহোতা গ্রেপ্তার
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাকারী ২০ বছর বয়সি কে এই বন্দুকধারী?