খেলা
অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে ১৬ বছরের নকআউট জয়ের খরা কাটাল স্পেন
দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও জয় পেল স্পেন। শেষ ৩২-এর ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। জোড়া গোল করেন মিকেল ওইয়ারজাবাল, আর একটি গোল করেন পেদ্রো পোরো।
২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি স্পেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় লা রোহা। এরপর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে নকআউটে উঠলেও শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। অবশেষে সেই হতাশার অধ্যায়ের ইতি টানল স্প্যানিশরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। ৩৬তম মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার বাড়ানো বল থেকে সহজ ফিনিশে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ওইয়ারজাবাল। ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল স্পেনের কোনো খেলোয়াড়ের প্রথম গোল। ২০১৮ সালে রাশিয়ার বিপক্ষে স্পেনের একমাত্র গোলটি এসেছিল প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোল থেকে।
এর আগে অবশ্য বল জালে পাঠিয়েছিল স্পেন। লামিন ইয়ামালের কর্নার থেকে কুকুরেয়া গোল করলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় গোলের আগে গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের প্রমাণ মেলায় সেটি বাতিল করা হয়।
প্রথমার্ধে আরও কয়েকবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। অ্যালেক্স বায়েনার ফ্রি-কিক এবং ফিরতি বলে লামিন ইয়ামালের শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শ্লাগার। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় স্পেন। ৬৫তম মিনিটে অ্যালেক্স বায়েনার ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন পেদ্রো পোরো। টটেনহ্যাম হটস্পারের এই ডিফেন্ডারের এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল।
গোল হজমের পর কিছুটা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে অস্ট্রিয়া। বদলি হিসেবে নামা সাশা কালাইজিচ মার্সেল সাবিৎসারের ক্রস থেকে হেড করলেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পুরো ম্যাচে এটিই ছিল অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুযোগ।
শেষদিকে আরও একবার আঘাত হানে স্পেন। ৮৮তম মিনিটে আবারও কুকুরেয়ার পাস থেকে বক্সের ভেতর নিখুঁত ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করেন ওইয়ারজাবাল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন এবং ১৬ বছরের নকআউট জয়ের খরা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পৌঁছে যায় পরবর্তী পর্বে।