জাতীয়
আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে হলে জুলাইয়ের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে: পার্থ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে হলে অনেক চিন্তাভাবনা করে এগোতে হবে। জুলাইয়ের ঘটনাকে অস্বীকার করে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। দলটিকে জুলাইয়ের ঘটনায় ক্ষমা চাইতে হবে এবং দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এরপর দেশের মানুষ তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে ভোলার ব্যাংকের হাটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তাঁর মতে, দেশে ফেরার জন্য এখনো উপযুক্ত সময় আসেনি। ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ এখনো ভুলে যায়নি। এ পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, দলটি প্রায় আড়াই বছর আগে দেশ ছেড়ে চলে গেছে। এরপর থেকে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম দেখা যায়নি। যদিও হাতে গোনা কয়েকজনকে বিভিন্ন সময়ে মিছিল করতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ যদি আবার রাজনীতিতে ফিরতে চায়, তাহলে তাদের অতীত কর্মকাণ্ড ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে।
জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাইকে অস্বীকার করে দেশে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। ওই সময়ের ঘটনায় দলটিকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং যাঁরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত দেশের মানুষই নেবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সময়ের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের গণতন্ত্রবিষয়ক বক্তব্যের সমালোচনা করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, আগে আওয়ামী লীগ দাবি করত, বাংলাদেশ জঙ্গিতে ভরে গেছে। আর এখন তারা বলছে, দেশে গণতন্ত্র নেই। অথচ তাঁর অভিযোগ, দলটি দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। বর্তমান সরকার নির্বাচিত হয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। পার্থের মতে, যে দলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ রয়েছে, সেই দলের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না।
ধর্মীয় উৎসব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আগে প্রচার করত, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে পূজা উদ্যাপন করা সম্ভব হবে না। কিন্তু বাংলাদেশে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্যাপিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের পরিবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের আগের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পার্থ বলেন, এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলার সময় আসেনি। ২০২৪ সালের ঘটনাগুলোর স্মৃতি মানুষের মধ্যে এখনো রয়েছে। তাই আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে হলে অতীতের ভূমিকা, জুলাইয়ের ঘটনা এবং জনগণের প্রত্যাশার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
এ সময় জেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।