খেলা

হোটেলে দুই স্ত্রীর মারামারি, অজ্ঞান হয়ে গেলেন মিশর কোচ


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

হোটেলে দুই স্ত্রীর মারামারি, অজ্ঞান হয়ে গেলেন মিশর কোচ
ছবিঃ সংগৃহীত

মিশর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান সম্প্রতি এক পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। উত্তর মিশরের একটি রিসোর্ট হোটেলে তার বর্তমান স্ত্রী ও সাবেক স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। মিশরীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে স্কাই নিউজ আরাবিয়া।

ঘটনাটি মিশরের উত্তর উপকূলের মেরিনা রিসোর্ট এলাকার একটি হোটেলের ক্যাফেতে ঘটে। ওই সময় হাসান তার বর্তমান স্ত্রী দান-আদমকে নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। তারা জনপ্রিয় মিশরীয় শিল্পী মোহামেদ রমজানের একটি অনুষ্ঠান দেখে হোটেলে ফিরেছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হঠাৎ হাসানের সাবেক স্ত্রী হুওয়াইদার সন্তানরা ক্যাফেতে এসে তার সঙ্গে দেখা করে। তারা হাসানকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। এ নিয়ে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। পরে তা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

একপর্যায়ে হাসানের বর্তমান স্ত্রী দান-আদমের সঙ্গে তার সাবেক স্ত্রী হুওয়াইদা ও তার মেয়ের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে এতে আরও কয়েকজন জড়িয়ে পড়লে ক্যাফেতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দান-আদমের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় কেউ তার শরীরে গরম কফি ছুড়ে মারেন। এরপর তাকে চড়-ঘুষি মারা এবং চুল ধরে টানাটানি করা হয়। তার সন্তানদেরও ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে দুই পক্ষের মাঝখানে পড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন হোসাম হাসান। একপর্যায়ে সংঘর্ষের মধ্যে তিনি মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান।

ঘটনার আকস্মিকতায় হোটেলের অন্য অতিথিরাও চমকে ওঠেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর হাসানের সাবেক স্ত্রী হুওয়াইদা থানায় অভিযোগ করেন। তবে পরে তিনি স্বেচ্ছায় সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।

অন্যদিকে বর্তমান স্ত্রী দান-আদম গণমাধ্যমকে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তাকে একসঙ্গে কয়েকজন আক্রমণ করেছিলেন। তার দাবি, পুরো ঘটনার সময় হাসান দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছিলেন না।

দান-আদম আরও জানান, অনুষ্ঠান শেষে হোটেলে ফেরার পর হাসানের সাবেক স্ত্রীর কয়েকজন সন্তান হঠাৎ সেখানে এসে তাকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পুলিশের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে ঘটনাটি নিয়ে মিশরীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।