আসছে ইসহাক খানের উপন্যাস ‘যারা যুদ্ধ করেছিল’

১৪ নভেম্বর ২০২২, ০২:৫০ পিএম | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪২ এএম


আসছে ইসহাক খানের উপন্যাস ‘যারা যুদ্ধ করেছিল’

মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রিয় টিভি নাট্যকার ইসহাক খানের মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস ‘যারা যুদ্ধ করেছিল’ শিগগিরই প্রচারে আসছে।

দেশের অনলাইন মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল ঢাকাপ্রকাশ ধারাবাহিকভাবে উপন্যাসটি পাঠকদের জন্য প্রকাশ করবে।

উপন্যাসের গল্পে দেখা যাবে, মমিন নিম্ববিত্ত পরিবারের সন্তান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ বর্ষের ছাত্র। ভীষণ রাজনীতি বিমুখ। জোর করেও তাকে মিছিলে নেওয়া যায় না। দুবেলা টিউশনি করে অতি কষ্টে তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ প্রতিদিনের মতো তিনি বিকালে ফুলার রোডে ছাত্র পড়াতে যান। গিয়ে জানতে পারেন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তার বাবার সঙ্গে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনতে গেছে। কথাটা শুনে মমিনের মনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তিনি আনমনে ভাবতে ভাবতে ভাইস চ্যান্সেলরের বাসার কাছে এসে দেখতে পান পিঁপড়ের সারির মতো লাইন ধরে মানুষ রেসকোর্স ময়দানের দিকে যাচ্ছে। মমিনের কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। তারপর যা হয়, রাস্তার মিছিলের চাপে তাকে রেকোর্স ময়দানে নিয়ে আসে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে মমিন অন্যরকম হয়ে যায়। তার শরীরের সমস্ত রক্ত চঞ্চল হয়ে ওঠে।

তারপর ২৫ মার্চ পাকিস্তানি মিলিটারি গণহত্যা শুরু করলে মমিন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মমিনের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ায় তার পরিবারের উপর নানা অত্যাচার শুরু হয়। সব উপেক্ষা করে মমিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। এভাবে এগিয়ে চলে উপন্যাসটির কাহিনী।

মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রিয় টিভিনাট্যকার ইসহাক খানের জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলা কানসোনা গ্রামে। ১৩৬২ সালের ২৩ শ্রাবণ তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ইয়াসিন আলী খান, মাতা মোকসেদা খানম। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবন শুরু। তারপর সলপ উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ মহাবিদ্যালয় সবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। স্কুল জীবন থেকে লেখালেখি শুরু।

দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন তার লেখা নাটক ‘ঢেউয়ের দোলা’ দর্শনীর বিনিময়ে মঞ্চস্থ হয়। ১৯৭১ সালে অস্ত্র হাতে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। যুদ্ধ পরবর্তী রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলা তাকে রাজনীতি বিমুখ করে। লেখালেখি হয়ে ওঠে তার আদর্শিক হাতিয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নগ্ন নাটমন্দির’ প্রকাশিত হয়।

১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেন। স্ত্রী শ্যামলী খান। তার দুকন্যা। বড় কন্যা অমৃতা খান একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক। ছোট কন্যা আনন্দিতা খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী এবং একজন নৃত্যশিল্পী।

ইসহাক খান লেখক সম্মাননা পেয়েছেন অনেক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ ‘ডাকসু’ সাহিত্য পুরস্কার, আমরা ক’জনা সাহিত্য পুরস্কার, সোনার বাংলা সাহিত্য পরিষদের লেখক সম্মাননা, লেখা প্রকাশনীর লেখক সম্মাননা, পাক্ষিক কারুকাজ লেখক সম্মাননা, পদক্ষেপ সাহিত্য পুরস্কার, অরুণিমা সংগীতালয় লেখক সম্মাননা, নোঙর লেখক সম্মাননা, স্বপ্নকুঁড়ি লেখক সম্মাননা, বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব পদক এবং আশির দশকে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত গল্প প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ গল্পকার হিসেবে
পুরস্কৃত হন।

আরএ/