ক্যারিয়ার
চাকরির বাজারে নতুন ধারা: আবেদনে জনপ্রিয় হচ্ছে 'ভিডিও সিভি'
লিখিত জীবনবৃত্তান্ত বা সিভির পাশাপাশি চাকরির বাজারে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ভিডিও সিভি বা ভিডিও রিজিউমি। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্মার্ট ও কার্যকর করতে প্রার্থীরা এখন নিজেদের ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে তুলে ধরছেন।
ভিডিও সিভি কেন জনপ্রিয়?
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বুশরা হুমায়রা জানান, ভিডিও সিভি হলো নিজেকে তুলে ধরার একটি 'স্মার্ট' উপায়। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী যেমন নিজের ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা ও আগ্রহ সরাসরি চাকরিদাতার সামনে উপস্থাপনের সুযোগ পান, তেমনি চাকরিদাতার পক্ষেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
বিশেষ করে বর্তমান সময়ে অনেক চাকরি এবং ফেলোশিপের ক্ষেত্রে ভিডিও সিভিকে প্রার্থীর চাহিদার তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে। এটি লিখিত সিভির বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি কার্যকর ভিডিও সিভি তৈরির প্রধান দিকগুলো হলো:
১. স্ক্রিপ্টিং: ভিডিও শুরু করার আগে একটি সুচিন্তিত স্ক্রিপ্ট তৈরি করা জরুরি। কথা যেন এলোমেলো না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
২. সময়সীমা : ভিডিওটি ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সবচেয়ে ভালো, কারণ নিয়োগদাতার হাতে অনেকগুলো আবেদন দেখার জন্য লম্বা সময় থাকে না।
৩. ভিডিওর বিষয়বস্তু :
* প্রথমে নিজের নাম, পদবি ও মূল যোগ্যতা সংক্ষেপে বলুন।
* কাঙ্ক্ষিত পদের সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা ও অর্জনগুলো তুলে ধরুন।
* সংখ্যা বা উপাত্ত ব্যবহার করে সাফল্যের প্রমাণ দিন (যেমন, "ছয় মাসে বিক্রয় ২৫% বাড়িয়েছি")।
* কেন আপনি কোম্পানির কাজ বা সংস্কৃতির জন্য উপযুক্ত, তা এক বা দুই লাইনে ব্যাখ্যা করুন।
* একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়ে ভিডিওটি শেষ করুন।
৪. পেশাদার মান: ভিডিওর গুণমান পেশাদার হতে হবে। পরিষ্কার ব্যাকগ্রাউন্ড (সাদা বা হালকা রঙের দেয়াল) এবং পর্যাপ্ত আলো (প্রাকৃতিক আলো সর্বোত্তম) ব্যবহার করতে হবে। ভালো মানের ক্যামেরা ও স্পষ্ট শব্দের জন্য মাইক্রোফোন ব্যবহার বাঞ্ছনীয়। ৫. বডি ল্যাঙ্গুয়েজ: ভিডিওতে আত্মবিশ্বাসী থাকা এবং ক্যামেরার দিকে সরাসরি তাকিয়ে কথা বলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা চোখে চোখ রেখে কথা বলার অনুভূতি তৈরি করে।
ভিডিও জমা দেওয়ার সহজ পদ্ধতি:
ভিডিওটি সরাসরি ই-মেইলে অ্যাটাচ না করে তা প্রথমে ইউটিউব বা ভিমিওর মতো প্ল্যাটফর্মে 'আনলিস্টেড' হিসেবে আপলোড করতে হবে। এরপর লিখিত সিভি বা কাভার লেটারে সেই ভিডিওর লিংক অথবা একটি কিউআর কোড যুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে।
ইতিবাচক প্রভাব:
নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, ভিডিও সিভি প্রার্থীর যোগাযোগ ও উপস্থাপনার দক্ষতা সরাসরি মূল্যায়নের সুযোগ দেয়। এটি আবেদনকারীর সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও কাজের প্রতি আগ্রহ ফুটিয়ে তোলে, যা ভিড়ের মধ্যে আবেদনটিকে আলাদাভাবে চোখে পড়তে সাহায্য করে।
তবে মনে রাখতে হবে, ভিডিও সিভি কখনোই প্রথাগত সিভির বিকল্প নয়; বরং এটি লিখিত সিভির একটি পরিপূরক।