স্বাস্থ্য

হার্টের রিং-এর দাম সর্বোচ্চ ৮৮ হাজার টাকা কমাল সরকার


স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪৪ পিএম

হার্টের রিং-এর দাম সর্বোচ্চ ৮৮ হাজার টাকা কমাল সরকার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে হৃদরোগীদের জন্য বড় এক সুখবর দিয়েছে সরকার। হার্টে প্রতিস্থাপনযোগ্য স্টেন্ট বা ‘রিং’-এর দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, তিনটি কোম্পানির ১১ ধরনের স্টেন্টের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি রিংয়ের মূল্য ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এই আদেশ অনুযায়ী, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানভেদে এখন থেকে খুচরা পর্যায়ে স্টেন্টের সর্বনিম্ন দাম হবে ৫০ হাজার এবং সর্বোচ্চ দাম ১ লাখ টাকা।

নতুন মূল্যতালিকায় দেখা গেছে, মেডট্রনিক কোম্পানির ‘রিজলিউট অনিক্স’ নামক স্টেন্টটি আগে বিক্রি হতো ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকায়, যা কমিয়ে এখন নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। একই কোম্পানির আরেকটি স্টেন্ট ‘অনিক্স ট্রুকর’-এর দামও ৭২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

বোস্টন সায়েন্টিফিক কোম্পানির ‘প্রোমাস এলিট’ স্টেন্টের দাম ৭৯ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৭২ হাজার টাকা এবং ‘প্রোমাস প্রিমিয়ার’ স্টেন্টের দাম ৭৩ হাজার থেকে কমিয়ে ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে একই কোম্পানির ‘সিনার্জি এক্সডি’ স্টেন্টে—এর দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১ লাখ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ‘সিনার্জি’ এবং ‘সিনার্জি শিল্ড’ স্টেন্টদ্বয়ের দাম কমিয়ে যথাক্রমে ৯০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, অ্যাবট কোম্পানির জনপ্রিয় ‘জায়েন্স প্রাইম’ স্টেন্টের দাম ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। যদিও ‘জায়েন্স এক্সপেডিশন’ স্টেন্টের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি—এটি আগের মতোই ৭১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হবে। তবে ‘জায়েন্স আলপাইন’ ও ‘জায়েন্স সিয়েরা’ স্টেন্টের দাম কমিয়ে ৯০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা আগে ছিল যথাক্রমে ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ এবং ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

উল্লেখ্য, হার্টের কোনো ধমনীতে রক্ত চলাচলে বাধা দেখা দিলে চিকিৎসকেরা রোগীকে ‘অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি’ করার পরামর্শ দেন। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে একটি ক্যাথেটারের মাধ্যমে ধমনীর ব্লকেজ দূর করে সেখানে একটি জাল আকৃতির নল (স্টেন্ট) বসানো হয়, যা ধমনীকে খোলা রাখতে সহায়তা করে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।

বাংলাদেশে ব্যবহৃত এসব স্টেন্ট মূলত আমদানি করা হয়ে থাকে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকে। মেডিকেল ডিভাইস আমদানিকারকরা এসব পণ্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করে থাকেন। হাসপাতালগুলোর ওয়ার্ড বা হৃদরোগ ইউনিটে এসব স্টেন্টের মূল্য তালিকা ঝোলানো থাকে এবং রোগীরা সেই তালিকা দেখে চিকিৎসকের পরামর্শে স্টেন্ট নির্বাচন করেন।

স্বাস্থ্যখাতে এই মূল্য হ্রাস হৃদরোগীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরাও।