স্বাস্থ্য
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১১০০
দেশে হামের প্রকোপে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ২৫৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০১ জন। ফলে এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১০৫ জনে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ৮৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ২৫৫ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার ৫১৯ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৯২ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন।
তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হওয়ায় সামগ্রিকভাবে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ শিশু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও তৈরি হচ্ছে। হাম প্রতিরোধে দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।