জাতীয়
এয়ারবাস থেকে আরও ১০ উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ, অক্টোবরে হতে পারে চুক্তি
ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর পরপরই এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার কথা জানাল সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বিমানমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এয়ারবাস কিনছি, ১০টি কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হয়ে যাবে।’ তিনি জানান, এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজ সরবরাহ পাওয়া নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ কারণে সরকার বিকল্প বিভিন্ন উপায়ে উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে মোট ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রায় গ্রাউন্ডেড হওয়ার অবস্থায় থাকায় কার্যকরভাবে প্রায় ১৭টি উড়োজাহাজ দিয়ে বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমান বহরের বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুরোনো হয়ে যাবে। ফলে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে নতুন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর জন্য বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে এরই মধ্যে বোয়িংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এর আগে আরও ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়েছিল। ফলে সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তিবদ্ধ উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।
তবে এসব উড়োজাহাজ একসঙ্গে বাংলাদেশে আসবে না। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম বোয়িং উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে দেশে আসার কথা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে ২০৩৫-৩৬ সাল পর্যন্ত অন্যান্য উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে। অর্থাৎ নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে।
এই সময়ের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সক্ষমতা বাড়াতে লিজের মাধ্যমে অন্তত আরও ১০টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বর্তমানে কার্যকর থাকা প্রায় ১৭টি উড়োজাহাজের সঙ্গে আরও ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করা সম্ভব হলে বিমানের ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে বর্তমানে ব্যবহার না করা বা সীমিতভাবে ব্যবহার করা বিভিন্ন স্লটও কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সরকার কাজ করছে। বহর সম্প্রসারণ করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে এসব রুটে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশি এয়ারলাইনসের সক্ষমতা বাড়িয়ে এ বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বা চালুর পরিকল্পনায় থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুট নিয়েও কাজ চলছে। নিউইয়র্কে পুনরায় ফ্লাইট চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি সিডনি রুট চালুর বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানে বর্তমানে একটি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে দ্বিতীয় ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিদেশি চাপ বা বিশেষ শর্ত রয়েছে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, কোনো চাপের কারণে সরকার এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত নেয়নি। দেশের প্রয়োজন এবং বিমান চলাচল খাতের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, কোন দেশ বা কোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। দেশের প্রয়োজন, যাত্রী চাহিদা, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিকভাবে অ্যাভিয়েশন খাতের স্বার্থ বিবেচনা করেই সরকার উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে একদিকে নতুন মালিকানাধীন উড়োজাহাজ যুক্ত হবে, অন্যদিকে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে লিজ নেওয়া উড়োজাহাজের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হবে।