অর্থনীতি

একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, পানিসম্পদ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আর্থিক খাত এবং নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের প্রকল্প।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে এনইসি ভবনে সাংবাদিকদের প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এছাড়া প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৮টি নতুন, ৩টি সংশোধিত এবং ২টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে দুটি প্রকল্প

স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, পটুয়াখালী (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প।

আর্থিক ও সামাজিক খাত

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)’ প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের রৌফাবাদে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে দুটি প্রকল্প

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে অনুমোদনের তালিকায়। এর একটি হলো ‘মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)’। অন্যটি হলো ‘মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্প।

এ দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন এবং নদীভাঙন থেকে জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি করপোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকায় ডিজিটাল জরিপ ও আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রংপুরসহ তিন জেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর একটি হলো ‘রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্প। অন্যটি ‘মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় সংশোধন)’।

শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

র‍্যাবের কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘র‍্যাব (এসআরবি)-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সৌরবিদ্যুৎ ও পার্বত্য এলাকায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ এবং তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প।

এ ছাড়া সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়।

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নির্ঝর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলায় বিএএফ শাহীন কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আলীকদম সেনানিবাসে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন।

এ তালিকায় আরও রয়েছে ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ১০ জেলায় বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, রূপসায় ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, মিরপুর ইউসেপ-শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত প্রকল্প।

এ ছাড়া কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীর দুই তীর সংরক্ষণ, হবিগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর দুই তীর প্রতিরক্ষা, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সড়ক ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ, ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, ভূঞাপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন প্রকল্পও রয়েছে।

একনেক সভায় স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সমাজকল্যাণ, ভূমি, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্য, পানিসম্পদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।