সারাদেশ
হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কে সংকট কাটছে না, সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক
হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কে দীর্ঘদিনের পরিবহন সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বাস আটক, ভাঙচুর এবং শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রুটটিতে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে আগামী ১ অক্টোবর সকাল থেকে হবিগঞ্জ জেলায় অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘট চলাকালে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা।
মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন হবিগঞ্জ মোটর গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট সড়কে নিয়মিত বাস চলাচল করে আসছে। তবে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছের হস্তক্ষেপে বিষয়টির একটি সমাধান হয়।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, চলতি বছরের ১০ মে কোনো ধরনের পূর্ব যোগাযোগ ছাড়াই মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা শেরপুর এলাকায় হবিগঞ্জের একটি বাস আটকে দেন। এ ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার সড়কে আগের নিয়ম অনুযায়ী বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাসের কোনো স্টপেজ থাকবে না।
এরপরও বিরোধের অবসান হয়নি বলে অভিযোগ করেন হবিগঞ্জের পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা। তাদের দাবি, গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটক করেন। বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জের বাস চলাচলের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। এরপর আটক করা বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে সমঝোতা বৈঠকের কয়েকদিনের মধ্যেই আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আবু মঈন চৌধুরী সোহেলের অভিযোগ, ২৪ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল শুরু হলে মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের আরও তিনটি বাস আটক করা হয়। এতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, তারা কোনো সংঘাত চান না। পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জের বাসগুলো যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেটিই তাদের দাবি। তিনি বলেন, সমঝোতা বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
হবিগঞ্জ মোটর গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ১ অক্টোবর সকাল থেকে হবিগঞ্জ জেলায় অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হবে। ধর্মঘটের আওতায় জেলার অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি দূরপাল্লার সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিরোধের কারণে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট অঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীরা পরিবহন সংকটে পড়ছেন। দুই পক্ষের বিরোধ দ্রুত সমাধান করে স্বাভাবিক বাস চলাচল নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।