সারাদেশ

‘২ কোটি দেন, সব সই করে দেব’-পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

‘২ কোটি দেন, সব সই করে দেব’-পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের কথোপকথন ও কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্যসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওটির কিছু অংশে নুরুল আমিনকে ঘুষের টাকা নিয়ে আলোচনা করতে এবং বিভিন্ন বিষয়ে অর্থ লেনদেনের কথা বলতে শোনা যায়।

প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিওটির একটি অংশে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনো একটা কারণে। আমি ২ কোটি টাকা থেকে নড়ব না। ৬ কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি ২ কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।’

ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবে।’ এরপর তিনি একটি কাজের ব্যয় ও মালামাল সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরও কিছু অর্থের হিসাব তুলে ধরেন।

ভিডিওর ওই অংশে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘সোজা হিসাব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। হিসাব করে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব।’

এ ছাড়া ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নুরুল আমিনকে নগদ টাকা গ্রহণ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে ওই ব্যক্তিদের মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। তাদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে তারা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে টাকা দিয়েছেন, সে বিষয়ে ভিডিও থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভিডিওর আরেকটি অংশে টাকা গণনা ও পূর্বে টাকা দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথন শোনা যায়। সেখানে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে কত?’ জবাবে এক ব্যক্তি বলেন, ‘এখানে ৩৫ স্যার।’ তখন নুরুল আমিন বলেন, ‘এক লাখ ৩৫।’ ওই ব্যক্তি জবাব দেন, ‘আগে দিয়েছি এক লাখ স্যার।’

তবে ভিডিওটি ঠিক কতদিন আগের, কোথায় ধারণ করা হয়েছে এবং ভিডিওতে থাকা কথোপকথনের পুরো প্রেক্ষাপট কী-এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওটির সত্যতা ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপটও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের দাপ্তরিক মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে থাকা বক্তব্য ও অর্থ লেনদেনের দৃশ্য সম্পর্কে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে ভিডিওতে থাকা অভিযোগগুলোর সত্যতা, অর্থ লেনদেনের প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।