সারাদেশ

মেয়ের বিয়ের বাজার করতে বেরিয়েছিলেন বাবা, ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

মেয়ের বিয়ের বাজার করতে বেরিয়েছিলেন বাবা, ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে
ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার মেয়ের বিয়ে। বাড়িতে চলছিল বিয়ের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বরপক্ষের লোকজনও মঙ্গলবার বাড়িতে আসার কথা ছিল। মেয়ের বিয়ের বাজার করতে মঙ্গলবার ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বাবা লোকমান হোসেন (৫০)। কিন্তু সেই বাজার নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। একই ঘটনায় মারা গেছেন দিরু নামে এক মাছ ব্যবসায়ীও।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর জেসন গেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত লোকমান হোসেন ভবানীপুর এলাকার সোনা মিয়া হাজীর ছেলে। অন্য নিহত দিরু মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তার বাড়ি নেত্রকোনায় বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় লোকমান হোসেন মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি মাছবাহী গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে সজোরে গিয়ে আঘাত করে।

এতে মাছবাহী গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গাড়ির চালকের পাশের সিটে থাকা মাছ ব্যবসায়ী দিরু গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার পর গাড়িচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত লোকমান হোসেন ও দিরুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক লোকমান হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত দিরুকে চিকিৎসা দেওয়া হলেও কিছু সময় পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ণ ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মুহাম্মদ আবু সায়েম মাসুম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা মাছবাহী গাড়ির চালকের পাশের সিটে থাকা এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ওসি আরও জানান, মাছবাহী গাড়িটিতে চালক ও হেলপারের সঙ্গে সহযাত্রী হিসেবে মাছ ব্যবসায়ী দিরু ছিলেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লোকমান হোসেনের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে কয়েকদিন ধরে বাড়িতে চলছিল নানা আয়োজন ও প্রস্তুতি। বিয়ের বাজার থেকে শুরু করে অতিথিদের আপ্যায়ন-সবকিছু নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। মেয়ের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিনে পাশে থাকার কথা ছিল বাবার। কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েকদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

যে বাবা মেয়ের বিয়ের বাজার করতে ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, সেই বাবাই আর জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরলেন না। বিয়ের আনন্দের বদলে এখন সেই বাড়িতে চলছে কান্না আর শোকের মাতম।