রাজধানী
ঢাকার ঐতিহাসিক স্থান আর ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না : ডিএসসিসি প্রশাসক
ঢাকার ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো আর ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শন সংরক্ষণ করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানেরও নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব।
মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়ারীতে অবস্থিত ঢাকা খ্রিস্টান কবরস্থানের প্রাচীন সমাধিগুলোর সংরক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ‘আদি ঢাকা’র বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য ও পুরোনো রূপ ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, আদি ঢাকাকে কেন্দ্র করেই বর্তমানের বিশাল এই মেগাসিটি গড়ে উঠেছে। ফলে এ অঞ্চলের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। অতীতের কোনো নিদর্শন যাতে অবহেলা, দখল বা অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
ওয়ারী এলাকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আবদুস সালাম বলেন, একসময় নদীবেষ্টিত যোগাযোগব্যবস্থা এবং উন্নত নগর সুবিধার কারণে ওয়ারী ছিল ঢাকার অন্যতম বনেদি ও অভিজাত এলাকা। বিভিন্ন সময়ের বহু প্রখ্যাত ব্যক্তি এ এলাকায় বসবাস করেছেন। ওয়ারীর পাশেই অবস্থিত ঐতিহাসিক বলধা গার্ডেনসহ পুরো এলাকার পরিবেশকে আগের মতো উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ডিএসসিসি কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকারের বিষয়েও বক্তব্য দেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু’ বলে আলাদা কোনো নাগরিক পরিচয় নেই; সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং সবার অধিকার সমান। একজন নাগরিকের যে অধিকার রয়েছে, অন্য ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরও একই অধিকার রয়েছে। কোনো ধরনের বিভেদ নয়, বরং সব ধর্মের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকা খ্রিস্টান কবরস্থানের সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই কবরস্থানের শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কবরস্থানের আশপাশের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
এ সময় কবরস্থানটির সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ডিএসসিসির তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও অর্থসহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
আদি ঢাকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরোনো ঢাকার অনেক রাস্তা সরু হলেও সেগুলো পরিচ্ছন্ন ও চলাচল উপযোগী রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এলাকাভিত্তিক শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক পরিবেশ বজায় রাখতে ভাসমান জনগোষ্ঠীর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এলাকাবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আদি ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা ও স্থানগুলো শুধু অতীতের স্মৃতি নয়; এগুলো রাজধানীর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নগর বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এসব স্থাপনা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরাও জরুরি। ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নগর উন্নয়নকে সমন্বয় করে আদি ঢাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও নান্দনিক করে গড়ে তুলতে ডিএসসিসি কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি।