সারাবিশ্ব

ইরান না পারলে উপসাগরীয় অঞ্চলে কেউ তেল রফতানি করতে পারবে না


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

ইরান না পারলে উপসাগরীয় অঞ্চলে কেউ তেল রফতানি করতে পারবে না
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের নিরাপত্তা ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে-এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, ইরান যদি নিজের অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করতে না পারে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশকেও তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝে রাখা উচিত—যে অঞ্চলে ইরান নিজের তেল বিক্রি করতে পারবে না, সেখানে অন্য কোনো দেশও তেল বিক্রি করতে পারবে না। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আরও বলেন, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে লক্ষ্য করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে এর প্রভাব শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির জলপথ এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেন গালিবাফ। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবিগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামো ও সম্পদের ওপর ইরানের নজর রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যাপক পাল্টা আক্রমণের মুখোমুখি হতে হবে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের জ্বালানি খাতে সরাসরি হামলা হলে তেহরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে রয়েছে প্রণালিটি পুনরায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব। তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দিলে, ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ সরিয়ে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী একটি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনাও শুরু করার কথা বলা হয়েছিল।

তবে ইরানের এসব শর্তকে প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গালিবাফ বলেন, ইরান কোনো ধরনের আকাশপথ বা বাণিজ্যিক অবরোধের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ইতিহাস ও শক্তিশালী জাতীয় চেতনার অধিকারী ইরানি জনগণ কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য, কৃত্রিম নিষেধাজ্ঞা কিংবা অর্থনৈতিক চাপের কারণে তাদের অবস্থান থেকে সরে যাবে না।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আরও বলেন, তেহরানকে হুমকি বা চাপ প্রয়োগ করে পিছু হটানো সম্ভব নয়। ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি কিংবা সামরিক পদক্ষেপের জবাব দ্রুত এবং কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ফলে গালিবাফের সর্বশেষ বক্তব্যের পর হরমুজ প্রণালি, ইরানের তেল রপ্তানি এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।