জাতীয়
চাঁদাবাজির মামলায় আসামিদের এক সপ্তাহও কারাগারে রাখা যাচ্ছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তিদের অনেক ক্ষেত্রেই এক সপ্তাহও কারাগারে রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আইনি জটিলতা ও দ্রুত জামিনের সুযোগের কারণে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যেই কারাগার থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ দমনে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনি জটিলতার বিষয়ও উঠে আসে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা দ্রুত জামিন পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে অভিযোগের পর গ্রেপ্তার করা হলেও দীর্ঘ সময় তাদের কারাগারে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আইনের কিছু সীমাবদ্ধতা এবং জামিন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চাঁদাবাজির ঘটনায় মামলা করার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধারণত চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিরই মামলা করার কথা। কিন্তু অনেক সময় চাঁদাবাজদের ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভুক্তভোগীরা মামলা করতে আগ্রহী হন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করার পর ভুক্তভোগীকে মামলা করতে বলা হলেও নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেকেই শেষ পর্যন্ত মামলা করতে চান না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইন পরিবর্তন করে পুলিশকে সরাসরি মামলা করার ক্ষমতা দেওয়া হলে সেটিও নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। কারণ, তখন বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ নিজ উদ্যোগে নিয়মিত মামলা করার সুযোগ পেতে পারে। এ কারণে একদিকে পুলিশকে সরাসরি মামলা করার দায়িত্ব দেওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভুক্তভোগীরাও মামলা করতে চাইছেন না।
তিনি জানান, চাঁদাবাজি ও এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় কীভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে সরকারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আইনি কাঠামোর দুর্বলতা ও বাস্তব প্রয়োগের সমস্যাগুলো নিয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে একই আলোচনা সভায় প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ নিয়ে সরকারের অবস্থানও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনটিকে কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত করতে চায় না সরকার। সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মীরা যাতে আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। অংশীজনদের কাছ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে আইনটির খসড়া আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকার এমন একটি সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে চায়, যার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে-এমন কথাও জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।