স্বাস্থ্য

রাতে এই ৭ খাবারেই লুকিয়ে ঘুম নষ্টের কারণ, জানুন কী এড়িয়ে চলবেন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

রাতে এই ৭ খাবারেই লুকিয়ে ঘুম নষ্টের কারণ, জানুন কী এড়িয়ে চলবেন
ছবি: সংগৃহীত

ব্যস্ত জীবনযাপন, মানসিক চাপ ও অনিয়মিত রুটিনের কারণে অনেকেরই রাতে পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম হচ্ছে না। ঘুমের সমস্যা হলে আমরা সাধারণত মোবাইল ব্যবহার, দুশ্চিন্তা কিংবা দৈনন্দিন কাজের চাপকে দায়ী করি। তবে ঘুমের সঙ্গে আমাদের খাদ্যাভ্যাসেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। রাতে নির্দিষ্ট কিছু খাবার খেলে হজমের সমস্যা, অস্বস্তি, অ্যাসিডিটি কিংবা শরীরের অতিরিক্ত সজাগ অবস্থার কারণে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে কী খাচ্ছেন, সেটি রাতের ঘুমের মানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভালো ঘুমের জন্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়াই নয়, রাতের খাবারের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রাতে কোন ৭ ধরনের খাবার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

১. ক্যাফেইনযুক্ত খাবার ও পানীয়

ঘুমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত বাধাগুলোর একটি হলো ক্যাফেইন। চা, কফি, কোলা বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের পাশাপাশি চকলেটেও ক্যাফেইন থাকতে পারে। ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে সজাগ রাখতে পারে এবং ঘুমিয়ে পড়তে দেরি হতে পারে। এর প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হলেও রাতে ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা থাকে। তাই যারা রাতে ঘুমাতে সমস্যায় ভোগেন, তাদের বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে দেখা যেতে পারে।

২. অ্যালকোহল

অনেকে মনে করেন, অ্যালকোহল পান করলে দ্রুত ঘুম চলে আসে। শুরুতে ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হলেও পরবর্তী সময়ে এটি ঘুমের স্বাভাবিক কাঠামো ব্যাহত করতে পারে। ফলে রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই ভালো ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য ঘুমের আগে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা ভালো।

৩. অতিরিক্ত ঝাল ও মশলাদার খাবার

রাতে অতিরিক্ত ঝাল বা মশলাদার খাবার খেলে অনেকেরই বুকজ্বালা, গ্যাস কিংবা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরে উঠে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এই অস্বস্তির কারণে ঘুমাতে সমস্যা হওয়া বা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই রাতে অতিরিক্ত ঝাল-মশলাদার খাবারের পরিবর্তে তুলনামূলক হালকা খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

৪. ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার

ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার কিংবা বেশি চর্বিযুক্ত খাবার হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। রাতে এসব খাবার বেশি পরিমাণে খেলে পেটে ভারীভাব, অস্বস্তি বা বদহজম হতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর ঠিক আগে এমন খাবার খেলে শরীর বিশ্রামে যাওয়ার পরিবর্তে হজমের কাজে ব্যস্ত থাকে। ফলে ঘুমের আরাম ও মান দুটোই কমে যেতে পারে।

৫. ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার

প্রোটিন শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। তবে রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে খুব বেশি পরিমাণে ভারী প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে কিছু মানুষের হজমে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে বেশি পরিমাণে মাংস বা ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে গেলে পেট ভারী লাগতে পারে। তাই রাতের খাবারে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা এবং ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করা উপকারী হতে পারে।

৬. অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে এমন ফল ও খাবার

কমলা, লেবু ও অন্যান্য সাইট্রাস ফল পুষ্টিকর হলেও যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রাতে এসব খাবার অস্বস্তি বাড়াতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত টক খাবারও কিছু মানুষের ঘুমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই প্রতিক্রিয়া হয় না। তাই কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর নিয়মিত বুকজ্বালা বা অস্বস্তি হলে সেটি রাতে এড়িয়ে চলাই ভালো।

৭. অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার

মিষ্টি, কেক, বিস্কুট, মিষ্টিজাতীয় ডেজার্ট ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। রাতে এ ধরনের খাবার বেশি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রায় ওঠানামা এবং ক্ষুধা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও ঘুমের অভ্যাসের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রাতের খাবারে অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে আনা ভালো।

ভালো ঘুমের জন্য কী করবেন?

শুধু নির্দিষ্ট কিছু খাবার এড়িয়ে চললেই ভালো ঘুম নিশ্চিত হয় না। নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চলা, ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত খাবার না খাওয়া এবং রাতে ক্যাফেইন কম গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার কমানো, আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস ঘুমের মান ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।

তবে কোনো খাবার সবার ঘুমের ওপর একইভাবে প্রভাব ফেলে না। কারও ক্ষেত্রে চা বা কফি সমস্যা তৈরি করতে পারে, আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে ঝাল বা ভারী খাবার বেশি সমস্যা করতে পারে। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে কোন খাবার রাতে অস্বস্তি তৈরি করছে, সেটি চিহ্নিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ভালো ঘুম শুধু পরদিন সতেজ থাকার জন্য নয়, সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাতের খাবারে পরিমাণ ও সময়ের দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।