জাতীয়
বৃষ্টিপাতে বাড়তে পারে তিস্তা, সুরমা ও কুশিয়ারার পানি; বন্যার শঙ্কা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্যাপ্রবণ তিস্তা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল বাড়তে পারে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাউবোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে এবং পরবর্তীতে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যের বরাত দিয়ে পাউবো জানিয়েছে, আগামী তিন দিন দেশের অভ্যন্তরে এবং দেশের উজানসংলগ্ন এলাকাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানির সমতলে পরিবর্তন আসতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল কমেছে। তবে আগামী পাঁচ দিন নদটির পানির সমতল মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে, যমুনা নদীর পানির সমতল বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী এক দিন যমুনার পানি কিছুটা কমতে পারে এবং পরবর্তী চার দিন তা স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে গঙ্গা নদীর পানির সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। অন্যদিকে পদ্মা নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন পদ্মার পানির সমতল কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকায়ও পানির সমতলে পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল কমেছে। আগামী দুই দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তৃতীয় দিনে নদ দুটির পানির সমতল আবার বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতলও গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। তিস্তা নদীর পানির সমতল আগামী এক দিন আরও কমতে পারে। এরপর পরবর্তী দুই দিনে তিস্তার পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও উজানের পানির প্রবাহের ওপর নদ-নদীর পানির সমতলের এই পরিবর্তন নির্ভর করবে। ফলে তিস্তা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।