জাতীয়
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের আগামী ৫০ বছর আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, সময়ের সঙ্গে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হচ্ছে। দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী ‘সোনালি ৫০ বছর’কে সামনে রেখে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে কাজ করছে চীন।
চীনের জাতীয় দিবসের ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ-চীন কালচার, ইকোনমি অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন সেন্টার (বিসিসিইএমসিসি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ২০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও নিলুফার চৌধুরী মনিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে এই সম্পর্ক ক্রমেই আরও শক্তিশালী হচ্ছে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের মানুষের অব্যাহত সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে চীনের অর্জিত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ব্যাপকভাবে ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত বেইজিং। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, নতুন যুগে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায় গড়ে তুলতে চীন কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আগামী ‘সোনালি ৫০ বছর’-এর জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরির লক্ষ্য রয়েছে বেইজিংয়ের।
অনুষ্ঠানে চীনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান। তিনি চীনের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং দেশটির উন্নয়নযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
আবদুল মঈন খান চীনের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে প্রচারিত ‘দ্য ইস্ট ইজ রেড’ গানটির কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, গানটি একসময় এশিয়া ও তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে নিজেদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
তিনি চীন-বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আরও অগ্রগতি কামনা করেন। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে চলমান। সামনের দিনগুলোতে এসব সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে-এমন প্রত্যয়ই উঠে আসে অনুষ্ঠানের বক্তব্যে।