জাতীয়
যাত্রীকে ১২ মিনিটে প্রথম লাগেজ দিতে হবে, সর্বশেষ ৪০ মিনিটে
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রীদের লাগেজ সরবরাহে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন টার্মিনালে ফ্লাইট অবতরণের পর সর্বোচ্চ ৪০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীদের ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ও সরবরাহের কাজ শেষ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, যাত্রীদের লাগেজ নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ভোগান্তি কমাতে নতুন টার্মিনালের পরিচালনব্যবস্থায় সময়সীমাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, তৃতীয় টার্মিনালে ফ্লাইট অবতরণের পর ১৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ সরবরাহ করা না গেলে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে জরিমানা করতে পারবে। বিষয়টি জাপানি কনসোর্টিয়াম ও সুমিতমোর সঙ্গে আলোচনায় ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।
শুধু লাগেজ সরবরাহ নয়, তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী ওঠানামা এবং অন্যান্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমেও নির্দিষ্ট মান ও সময়সীমা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান উন্নত করার পাশাপাশি বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিমানমন্ত্রী জানান, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে সীমিত পরিসরে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে পরে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পুরো কার্যক্রম চালু হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশনাল প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে চলছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সমন্বয়কাজের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আমদানি করা বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পরীক্ষা ও ট্রায়াল চলছে। স্ক্যানার, ইমিগ্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতিও টার্মিনাল চালুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ও ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আধুনিক অবকাঠামো ও নির্দিষ্ট সেবামানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বর্তমানে পুরোনো টার্মিনালগুলোতে লাগেজ পেতে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও নতুন টার্মিনালে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও জরিমানার বিধান কার্যকর হলে ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। ফলে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে লাগেজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার ভোগান্তি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের সামগ্রিক যাত্রীসেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে দ্রুত ব্যাগেজ সরবরাহ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সময়সীমা এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো যাত্রীদের অভিজ্ঞতায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে।