সারাবিশ্ব

এবারের আলোচনা ‘আরও বেশি আন্তরিক’ হবে, প্রত্যাশা ইরানের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

এবারের আলোচনা ‘আরও বেশি আন্তরিক’ হবে, প্রত্যাশা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। নতুন করে একটি শান্তি প্রস্তাব দেওয়ার পর এবারের আলোচনাকে আগের তুলনায় আরও ‘আন্তরিক’ ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যাশা করছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যোগাযোগের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

তেহরান থেকে সাংবাদিক মোহাম্মদ ভাল জানান, নতুন প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর ইরানের প্রত্যাশা কিছুটা বেড়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো এগিয়ে নিতে বেশ সময় লেগেছিল। তবে এবার নতুন শান্তি প্রস্তাব দেওয়ার পর পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করছেন তিনি। তার প্রত্যাশা, এবারের আলোচনা তুলনামূলকভাবে দ্রুত এগোবে এবং আগের চেয়ে বেশি কার্যকর ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরাসরি আগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কূটনৈতিকভাবে সমাধানের পথ এখনও খোলা রয়েছে এবং ইরানও আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বাতিল করছে না।

তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগ্রহ দেখালেও নিজেদের মৌলিক অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-তিনজনই সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্বলতা দেখাতে চায় না তেহরান।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে তারা বিচলিত নয়। বরং পরিস্থিতি যেকোনো দিকে মোড় নিলে নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে। অর্থাৎ একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখছে তেহরান।

এ অবস্থায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া কী হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনায় বাস্তব কোনো অগ্রগতি আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। তেহরানের প্রত্যাশা, এবারের আলোচনা আগের তুলনায় কম সময়ে এবং আরও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তবে আলোচনার পাশাপাশি ইরান যে নিজের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখবে, তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই বার্তাও স্পষ্ট।